মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’জনকে কুপিয়ে খুন! টাইমস স্কোয়ারে হাড়হিম করা ঘটনা জানুন

আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারে ভয়াবহ চাঞ্চল্য। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এই ব্যস্ততম এলাকায় ছুরি হাতে এক মহিলা আচমকাই পথচারীদের ওপর হামলা চালান। এই এলোপাথাড়ি হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রায় চার মিনিট ধরে চলা চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর, পুলিশ ওই হামলাকারী মহিলাকে গুলি করে হত্যা করে।

নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম পামেলা সিসনেরোস (৪৯)। কোনও পূর্বপরিকল্পনা বা প্ররোচনা ছাড়াই তিনি মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’জনের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালান। ঘটনার সময় টাইমস স্কোয়ারে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পর্যটক উপস্থিত ছিলেন, যার ফলে মুহূর্তে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পেটে ছুরিকাঘাতের জেরে আহত যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আহত বৃদ্ধের অবস্থাও শুরুতে আশঙ্কাজনক থাকলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গোলাপি শার্ট ও জিন্স পরিহিত পামেলা হাতে জোড়া ছুরি নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন। উল্টে তিনি পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমি হাত থেকে কিছুই ফেলব না। বরং আমি আপনাদের দু’জনকেই মেরে ফেলব। আমি আপনাদের খুন করব।”

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাথমিকভাবে ‘টেজার’ (ইলেকট্রিক শক ডিভাইস) ব্যবহার করলেও তা ব্যর্থ হয়। পামেলা নিজের শরীর থেকে টেজার সরিয়ে ফেলে ছুরি উঁচিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে যান। এরপর আত্মরক্ষার্থে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিবিদ্ধ পামেলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এনওয়াইপিডি-র তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই আরও বড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এটি কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা নয়, বরং পামেলার দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হবে।