বিজেপিতে তৃণমূলে যোগদানের হিড়িক! দলবদলুদের নিয়ে সংঘ ঘনিষ্ঠ পত্রিকার চরম হুঁশিয়ারি

তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস শিবির থেকে দলত্যাগ করে আসা দুষ্কৃতী ও তোলাবাজদের দলবদল নিয়ে এবার চরম অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা বহু নেতা ও সাংসদ যখন একে একে গেরুয়া শিবিরে ভিড় জমাচ্ছেন, ঠিক তখনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) ঘনিষ্ঠ মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’-র সাম্প্রতিক সম্পাদকীয় প্রকাশ্যেই দলের নীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা দিল। পত্রিকার সাফ দাবি, সাধারণ মানুষ রাজ্যে পরিবর্তন আনতে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু দলে যদি হঠাৎ করেই দাগী অপরাধী ও তোলাবাজদের প্রবেশ ঘটে, তবে তা দলের ভাবমূর্তিকে তলানিতে নিয়ে ঠেকবে।

স্বস্তিকার নিবন্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “যদি মাত্র ২ শতাংশ মানুষ বা ভোটার মনে করে যে বিজেপি আদতে গত ১৫ বছর ধরে চলে আসা একটি ‘তস্কর বা চোর’ সরকারেরই অপরূপ, তবে তার ফলে ৯০ শতাংশ ভোটার মুহূর্তের মধ্যে বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে একবিন্দুও দ্বিধাবোধ করবে না।” তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সাংসদ-বিধায়করা যখন গ্রেফতারি এড়াতে বা জনরোষ থেকে বাঁচতে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান, তখন তা নিচুতলার কর্মী ও সমর্থকদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। অতীতে শমীক ভট্টাচার্য বা সুকান্ত মজুমদারের মতো রাজ্য নেতাদের মুখেও এ নিয়ে একপ্রকার আক্ষেপ বা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দলীয় নীতি উপেক্ষা করে জয়ী প্রার্থীদের দলে টেনে নেওয়ার প্রবণতা যে কমছে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে এতদিন যারা সুর চড়িয়েছিলেন, সেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়দের একাংশ এখন এনডিএ জোটে সামিল হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আর এই ভোলবদল ও সুবিধাবাদী রাজনীতি দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যাদবপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক সমীকরণ বিচার করে ‘স্বস্তিকা’ মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বাংলার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ পরিবর্তন চেয়ে বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আস্থার জায়গায় চিড় ধরাতে যদি কিছু সুবিধাভোগী নেতা বা অনুপ্রবেশকারী সুযোগ নেন, তবে তার মাশুল বড়সড় রাজনৈতিক দাম দিয়ে চুকাতে হতে পারে।

দলীয় সূত্রে খবর, এই ধরণের opportunist বা সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্ব যদি অবিলম্বে কড়া হাতে রাশ না টানে, তবে তৃণমূলীকরণের গ্রাসে দলের মূল আদর্শ ও দীর্ঘদিনের লড়ে যাওয়া কর্মী বাহিনী একসময় পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়বে। তবে সংঘের এই প্রচ্ছন্ন ও কড়া সতর্কবার্তার পর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন দিনগুলিতে দলবদলের এই স্রোত কীভাবে সামাল দেয় গেরুয়া শিবির, সেটাই এখন দেখার বিষয়।