ট্রেনের জানলা দিয়ে ছুটছে শহর, আর আপনি ট্রেনের ভেতরেই মেতেছেন প্রিয়জনের জন্মদিনের উৎসবে কিংবা পারিবারিক কোনো গেট-টুগেদারে। স্বপ্ন নয়, এবার এমনই এক অবিশ্বাস্য সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে মধ্যপ্রদেশ মেট্রো রেল কর্পোরেশন। ইন্দোর মেট্রোতে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়াতে এবং রাজস্ব আদায়ে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে চলন্ত মেট্রো কোচের ভেতরেই আয়োজন করা যাবে বার্থডে পার্টি বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান।
মেট্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. কৃষ্ণ চৈতন্য জানিয়েছেন, ইন্দোর এবং ভোপালের মতো শহরগুলোতে আধুনিক জীবনযাত্রার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই উদ্যোগ। তিনি মনে করেন, গণপরিবহনকে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে না রেখে মানুষের যাপনের অংশ করে তোলা প্রয়োজন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনসাধারণ মেট্রোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারবেন।
খরচ ও আয়োজন:
মেট্রো কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫০ জন অতিথি অংশ নিতে পারবেন। চলন্ত মেট্রো ট্রেনে এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানের জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৭,০০০ টাকা। তবে আপনি যদি চলন্ত ট্রেন না বেছে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা স্থির ট্রেনে কেক কাটা বা ছোট অনুষ্ঠান করতে চান, তবে খরচ পড়বে ৫,০০০ টাকা। তবে মনে রাখবেন, বুকিংয়ের সময় ২০,০০০ টাকার একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হবে, যা অনুষ্ঠান শেষে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া যাবে।
বুকিংয়ের নিয়ম ও বিধিনিষেধ:
ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অন্তত ১৫ দিন আগে এই পরিষেবার জন্য আবেদন করতে হবে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’—এই ভিত্তিতেই মিলবে বুকিং। তবে আনন্দের মাঝেও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করছে না মেট্রো প্রশাসন। প্রতিটি অতিথিকে কড়া নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। উৎসবের আমেজে সামিল হলেও ট্রেনের ভেতর মদ, বিড়ি, সিগারেট বা কোনো ধরণের আতশবাজি ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আসলে, ইন্দোর মেট্রো চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রী সংখ্যা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন। দৈনিক পরিচালনার খরচ যেখানে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা, সেখানে আয় বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে মেট্রোকে জনপ্রিয় করে তুলতেই এই ‘পার্টি অন হুইলস’ ধারণাটি আনা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই অভিনব বিপণন কৌশল শহরবাসীর জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।





