মহিলা বিলের জেরে লঙ্কাকাণ্ড! হেমা মালিনী থেকে বাঁশুরি— রাজপথে বিজেপির হেভিওয়েটরা, চলল জলকামান

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল (১৩১তম সংশোধনী) মুখ থুবড়ে পড়ার পর এবার রাজপথে কার্যত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করল বিজেপি। শনিবার বিকেলে দিল্লির রাজপথে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবন অভিযানে নামেন বিজেপির মহিলা মোর্চার শত শত কর্মী ও হেভিওয়েট নেত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়। আটক করা হয়েছে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কন্যা বাঁশুরি স্বরাজ, অভিনেত্রী হেমা মালিনী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রক্ষা কাদসেসহ একাধিক নেতাকে।

রণক্ষেত্র দিল্লির রাজপথ

সংসদে ভোটাভুটিতে বিলটি পরাজিত হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিয়ে প্রচারে নেমেছে বিজেপি। এদিন কালো পতাকা, কালো ফিতে এবং স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লির রাস্তা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও বাঁশুরি স্বরাজ। মিছিল রাহুল গান্ধীর বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকায়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, যা এক সময় রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।

আটক হয়েই হুঙ্কার বাঁশুরি স্বরাজের

দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বাঁশুরি স্বরাজ বলেন:

“আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জলকামান দিয়ে দমন করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনো জলকামানই দেশের মহিলাদের জন্য লড়াই করা থেকে আমাদের আটকাতে পারবে না। কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

কেন ক্ষুব্ধ হেমা মালিনী ও রেখা গুপ্তা?

বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ তথা বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী অত্যন্ত হতাশ হয়ে বলেন, “ওরা বিলটি পাস হতে দিল না। আমরা সব প্রচেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বিরোধীরা তা আটকে দিল।” অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সরব হন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দ্বিচারিতা নিয়ে। তাঁর প্রশ্ন, “বিরোধীরা যদি সত্যিই মুসলিম মহিলাদের দরদী হন, তবে তিন তালাক আইনের বিরোধিতা কেন করেছিলেন?”

কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি: আসন বাড়ানোর ফাঁদ?

আন্দোলনের মুখে কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদ জানিয়েছেন, তারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নন। কিন্তু বিজেপি এই বিলের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৫ করতে চাইছে (ডিলিমিটেশন), যা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেবে। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি আসলে ‘দেখনদারি’ করছে।

বিজেপির পরবর্তী স্ট্র্যাটেজি

ভোটাভুটিতে হারলেও এই ইস্যুটিকে জাতীয় স্তরে বড় হাতিয়ার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলায় এবং প্রতিটি গ্রামে গিয়ে কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটকে ‘মহিলা-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বিজেপি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy