মহিলার গোপনাঙ্গে লুকিয়ে মাদক পাচার! পুলিশের তল্লাশিতে ফাঁস হলো এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি

কেরলের ত্রিশূরে ঘটে যাওয়া এক মাদক পাচারের ঘটনা পুলিশি মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রুটিন গাড়ি তল্লাশির সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল সাতজন মাদক পাচারকারী। তবে এদের পাকড়াও করার পর পাচারের যে অভিনব ও কুরুচিকর পদ্ধতি সামনে এল, তা দেখে হতবাক তদন্তকারী অফিসাররাও। ভানিয়ারপারা এলাকায় জেলা অ্যান্টি নারকোটিক স্পেশাল অ্যাকশন ফোর্সের অভিযানেই ফাঁস হলো এই বড়সড় ড্রাগ সিন্ডিকেট।
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি সুইফ্ট গাড়ি পালাক্কড়ের একটি রিসর্ট থেকে ত্রিশূরের দিকে যাচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়িটিকে থামায়। তল্লাশি চালানোর সময় এক মহিলার অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর তল্লাশি করতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। ওই মহিলার গোপনাঙ্গ থেকে উদ্ধার হয় ২ গ্রাম সিন্থেটিক ড্রাগ বা এমডিএমএ (MDMA)। এই ঘটনার সূত্র ধরেই পুলিশ পাচারকারীদের ডেরায় হানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ধৃত ওই মহিলাকে জেরা করে পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে আরও ১৮ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার করে। এরপর তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করা হয়। জানা যায়, এই পাচারকারী চক্রের একটি অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাব্রিকেশন ওয়ার্কশপ রয়েছে। পুলিশ সেই ওয়ার্কশপে হানা দিয়ে ২৮৮ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার করে। মাদকগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে অ্যালুমিনিয়ামের কভারের ভেতরে তিনটি করে প্যাকেট বানিয়ে রাখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই অভিযানে মোট ৩০৮ গ্রাম এমডিএমএ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাদক উদ্ধার অভিযান বলে মনে করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় দুই মহিলাসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কশপের আড়ালেই মাদকের বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। এমডিএমএ, যা ‘এক্সটেসি’ নামেও পরিচিত, আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত দামী এবং নেশাখোরদের কাছে জনপ্রিয় একটি নিষিদ্ধ মাদক। এর এক একটি ট্যাবলেটের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ থেকে ৩০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা। এই মাদক সেবনের ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত এর প্রভাব শরীরে বজায় থাকে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।