“চোর একজোট হয়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম করেছে!” বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় রচনা-ঋতব্রত

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা কার্যত ‘সতর্কবার্তার সভা’য় পরিণত হলো সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র মন্তব্যে। হুগলি জেলা সভাপতি অসিত মজুমদারের ডাকে আয়োজিত এই জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ তুললেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ বলেন, “তৃণমূলের যারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”

সাংসদের এই মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নাম না করে কল্যাণ বলেন, “শুধু কালিকে ধরলে হবে না, কলম-দোয়াতকেও ধরতে হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যে দলের শীর্ষস্তরের দিকেই আঙুল তুলছেন, তা স্পষ্ট। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কেবল ছোট নেতাদের ওপর দায় না চাপিয়ে মূল হোতাদের গ্রেফতারের দাবি তুলে তিনি নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন।

তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল অত্যন্ত ধারালো। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাতী খন্দকার, মিতালী বাগ এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীদের বিরুদ্ধে তাঁর তোপ দাগা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “সব চোর একজোট হয়ে আজ বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তকমা নিয়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এরা বিজেপি-তে স্থান না পেয়েই নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছে।”

সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রেয়াত করেননি কল্যাণ। তিনি বলেন, “রচনা নিজেকে বড় তারকা মনে করেন। তিনি বলছেন তাঁর ফেস ভ্যালুর জন্যই তিনি জিতেছেন। কিন্তু হুগলির মানচিত্র কতটা, সেটাই হয়তো তিনি জানেন না। মানুষ তাঁকে ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালক হিসেবে ভালোবেসেছিল, কিন্তু এখন তিনি দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। নিজের ভুল বুঝতে তাঁকে শিখতে হবে।” মিতালী বাগের ক্ষেত্রেও তিনি স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, একসময় তাঁকেই মিতালী বাগের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাপ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। আজ মিতালী বিরোধী শিবিরে ভিড়েছেন, কিন্তু তাঁর পাশে একজন কর্মীও নেই।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়েও তিনি বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। সভায় তিনি দাবি করেন, অতীতে সুদীপকে দলে নেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি, যার জন্য তাঁকে দলের অন্দরেই হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। সভায় চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার যেন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি ভুলে না যায়। যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সরকারকে ব্যর্থ বলেই গণ্য করবেন।

সভার শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনের রণকৌশল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের আসল শক্তি সাধারণ কর্মীরা। কর্মীরাই ঠিক করবেন ভবিষ্যতে তাঁদের নেতা কে হবে।” এই বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সফরের সংকল্প নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘একলা চলো’ মনোভাব এবং সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।