রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা উধাও! তদন্তে নামতেই বেরিয়ে এল ‘আলাদিনের প্রদীপ’

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অর্পিত কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। রবিবার সকাল থেকেই আট মূল অভিযুক্তের বাড়িতে শুরু হয়েছে যৌথ তল্লাশি অভিযান। স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই বিপুল পরিমাণ চুরির অর্থের উৎস এবং অভিযুক্তদের বাড়তি আয়ের পথ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া এই আট কর্মী—অবিনাশ শুক্লা, অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং তিন্নু যাদবের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন অভিযুক্তদের হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া আর্থিক প্রতিপত্তি। গত চার বছরে এই কর্মীদের সম্পত্তি, ব্যাংকে জমানো টাকা এবং গয়নার হিসাব মেলাতে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে তিন্নু ও মণীশ যাদবের পরিবার তদন্তে অসহযোগিতা করছে, তবে প্রতিবেশীদের বয়ান থেকে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কীভাবে সাধারণ জীবন থেকে রাতারাতি বিলাসিতার শীর্ষে পৌঁছালেন এই কর্মীরা, সেই রহস্যই এখন পুলিশের মাথাব্যথার কারণ।
তদন্তে সামনে এসেছে এক অবিশ্বাস্য মোড়। অভিযুক্ত অনুকূল মিশ্রের কাকিমা নেহা মিশ্রের জবানবন্দি অনুযায়ী, রাম মন্দিরের ট্রাস্টে কাজ পাওয়ার আগে অনুকূলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সাধারণ ছিল। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাদের জীবনযাত্রায় আকাশ-পাতাল তফাত দেখা দেয়। বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং সম্পত্তির পাহাড় গড়ে ওঠে চোখের পলকে। পুলিশের দাবি, এটি যেন সত্যিই ‘আলাদিনের প্রদীপ’ খুঁজে পাওয়ার মতো ঘটনা।
প্রাথমিক হিসেবে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে মাত্র ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে। বাকি বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল? তা উদ্ধার করতেই আজকের এই ব্যাপক তল্লাশি। অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সোমবার। তদন্তকারী দল তাদের আবারও আদালতে পেশ করে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানাবে, যাতে এই জালিয়াতির মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়। রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে এমন নজিরবিহীন দুর্নীতিতে রীতিমতো স্তম্ভিত ভক্তকুল।