মহিলাদের জন্য বড় সুখবর, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ও গ্যাস সিলিন্ডারে ছাড়, কী বলছেন অভিষেক?

জুলাই মাসের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের জন্য একগুচ্ছ স্বস্তির খবর। একদিকে রান্নার গ্যাসের দাম কমার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার সরাসরি আর্থিক সুবিধা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি জটিলতা—আজকের দিনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে।

রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক বড় ঘোষণা বাস্তবায়ন হতে চলেছে আজ। রাজ্যের ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলা উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রকল্পের শর্তাবলী পূরণকারী সকল মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণের পর থেকেই এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন উপভোক্তারা। আজ থেকে সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রান্তিক স্তরের বহু মহিলাই আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

এই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আজ থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোর ঘোষণাতেও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ফিরল। রেস্তোরাঁ, ছোট দোকান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যবহৃত ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমানো হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানির দাম কমায় পরিষেবা খাতের ব্যয়ভার কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের এই জোড়া ঘোষণায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে রয়েছে রাজনীতির উত্তাপ। একদিকে যখন জনমুখী প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে আইনি জটিলতা পিছু ছাড়ছে না ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডিজে মামলার আইনি লড়াইয়ে এখনো স্বস্তি মিলল না তাঁর। নিয়োগ দুর্নীতির মামলাসহ একাধিক ঘটনায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর তদন্তের মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি এবং সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকে এই আইনি লড়াই এখন আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে যে, আগামী দিনে এই আইনি লড়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের অন্দরে সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করবে। একদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততা, আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার লাগাতার চাপ—এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মাঝেই আজকের দিনটি রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।