মহাশূন্যে মহাপ্রলয়! সূর্যের গ্রাসে হারিয়ে গেল ‘সানগ্রেজার’ ধূমকেতু, ক্যামেরায় ধরা পড়ল শেষ মুহূর্তের দৃশ্য

মহাকাশে এক বিরল এবং নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সূর্যের অত্যন্ত কাছে পৌঁছে যাওয়া এক বিশেষ ‘সানগ্রেজার’ (Sungrazer) ধূমকেতু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। C/2026 A1 (MAPS) নামের এই ধূমকেতুটিকে নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। নাসার (NASA) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ এবং শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টান সহ্য করতে না পেরেই শেষ পর্যন্ত বিলীন হয়ে গিয়েছে এই মহাজাগতিক পরিব্রাজক।

শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার ও শেষ যাত্রা:
মজার বিষয় হলো, ক্র্যুটজ (Kreutz) সানগ্রেজার পরিবারের এই সদস্যটিকে প্রথম খুঁজে বের করেছিলেন কয়েকজন শখের জ্যোতির্বিজ্ঞানী। নাসার SOHO এবং STEREO মহাকাশযান দুটি এই ধূমকেতুর ওপর কড়া নজর রাখছিল। SOHO-র ‘LASCO’ করোনাগ্রাফ যন্ত্রটি ধূমকেতুটিকে সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় দেখেছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটা বদলে যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, সলিড ধূমকেতুটি ভেঙে স্রেফ ধুলোর মেঘে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, STEREO মহাকাশযানের রেকর্ডে দেখা গিয়েছে, সূর্যকে একবার চক্কর দেওয়ার পরেই ধূমকেতুটি চিরতরে উধাও হয়ে গিয়েছে।

কেন এই মহাজাগতিক মৃত্যু?
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ধূমকেতু যখন সূর্যের কাছে আসে, তখন এর ভেতরের জমে থাকা বরফ প্রচণ্ড তাপে গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। ফলে ধূমকেতুর কেন্দ্রভাগে তীব্র চাপের সৃষ্টি হয় এবং তা ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এর সঙ্গে কাজ করে সূর্যের ‘টাইডাল ফোর্স’ বা মহাকর্ষীয় টান। MAPS ধূমকেতুটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে ছুটছিল। এই প্রবল গতি এবং সূর্যের মরণফাঁদ থেকে শেষরক্ষা হয়নি তার।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় নতুন আলো:
নাসার নতুন ‘PUNCH’ মিশন ১ এপ্রিলের আগেই MAPS-এর ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের আশা, এই তথ্যগুলো থেকে ভবিষ্যতে সৌরঝড় এবং ধূমকেতুর লেজের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম ধারণা পাওয়া যাবে। এর আগে ২০২০ সালেও পার্কার সোলার প্রোব এমন এক ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করেছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সৌরজগতের জন্মলগ্ন ও বিবর্তনের অজানা রহস্য সমাধান করা সম্ভব হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy