মহানায়কের শতবর্ষে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ! প্রসেনজিৎকে চিঠিতে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

বাঙালি মানেই মহানায়ক উত্তম কুমারের চিরসবুজ উপস্থিতি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মশতবার্ষিকী। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান অসামান্য এবং বাঙালির মননে তিনি আজও অদ্বিতীয়। মহানায়কের এই শতবর্ষের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এবার এক বিশেষ এবং বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা আর্টিস্ট ফোরামের সাথে জড়িত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এক বিশেষ চিঠি পাঠালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬’ অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিল্পীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণমূলক কাজ এবং প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির যে কাজ আপনারা করছেন, তা অনবদ্য। কিংবদন্তি শিল্পীদের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।” সেইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি স্বীকৃতি পাইয়ে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে।

এরপরই চিঠির মূল বিষয়ে আলোকপাত করেন শুভেন্দু অধিকারী। মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০ তম জন্মজয়ন্তী যে বাঙালির জন্য এক বিশেষ আবেগ ও গৌরবের, তা চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা জানান, এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত বৃহৎ এবং বর্ণাঢ্য পরিসরে জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল সরকারি স্তরে নয়, বরং সমগ্র চলচ্চিত্র জগতের সম্মিলিত প্রয়াসেই পূর্ণতা পাবে বলে তিনি মনে করেন।

চিঠির শেষাংশে তিনি সমগ্র টলিউড পরিবারের কাছে এই আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের এই মহৎ উদ্যোগে সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী, কলাকুশলী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় ভূমিকা একান্ত কাম্য। আপনাদের সহযোগিতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা পাবে।”

রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনায় টলিউডের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ যে মহানায়কের প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান হতে চলেছে, তা বিরোধী দলনেতার এই বার্তার মাধ্যমেই স্পষ্ট। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে যাওয়ার পর, মহানায়কের শতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে এখন টালিউডজুড়ে সাজসাজ রব। বাঙালির প্রিয় মহানায়ককে সম্মান জানানোর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে আপামর বাঙালির চোখ এখন প্রসেনজিৎ ও শিল্পীদের পদক্ষেপের দিকেই নিবদ্ধ।