মহাকাশে ইতিহাস! ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেননের প্রথম স্পেসওয়াক ঘিরে চাঞ্চল্য, দেখুন কী করলেন নাসার নভোচারী

🔹 Bengali Version:
মহাকাশে ইতিহাস! ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেননের প্রথম স্পেসওয়াক ঘিরে চাঞ্চল্য, দেখুন কী করলেন নাসার নভোচারী
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টার রোমাঞ্চকর স্পেসওয়াক সফলভাবে সম্পন্ন করলেন নাসার দুই নভোচারী অনিল মেনন এবং জেসিকা মেয়ার। বৃহস্পতিবার অত্যন্ত ঝুঁকি ও দক্ষতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করেন তাঁরা। মূল লক্ষ্য ছিল মহাকাশ কেন্দ্রের পাওয়ার চ্যানেল মডিফিকেশন এবং নতুন সোলার অ্যারে সংযোজন করার উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচারী অনিল মেননের মহাকাশ জীবনের এটিই প্রথম স্পেসওয়াক, যা নিয়ে গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে চরম উন্মাদনা।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইস্টার্ন টাইম জোন বা ইটিডি সকাল ৮টা বেজে ৩৩ মিনিটে এই স্পেসওয়াক শুরু হয় এবং তা চলে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে। এই দীর্ঘ সময় ধরে দুজনে মিলে মোট ২৮১টি জটিল পদক্ষেপ সম্পন্ন করেন। এটি জেসিকা মেয়ারের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ স্পেসওয়াক হলেও, ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেননের ক্ষেত্রে এটি ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। স্পেসওয়াকের প্রধান লক্ষ্য ছিল মহাকাশ স্টেশনের ৩বি পাওয়ার চ্যানেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা, যা ৬ ট্রাস সেগমেন্টে অবস্থিত।
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সফল আপগ্রেডের ফলে আগামী দিনে নতুন ‘আইরোসা’ সোলার অ্যারে ইনস্টল করার পথ প্রশস্ত হবে। এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অরবিটিং ল্যাবরেটরিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতের জটিল বৈজ্ঞানিক সিস্টেমগুলিকে আরও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। এই হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের পাশাপাশি দুই নভোচারী অত্যাধুনিক কেবেলিংয়ের কাজও নিখুঁতভাবে শেষ করেন। ফলে ভবিষ্যতে স্পেস স্টেশন রোল-আউট সোলার অ্যারে থেকে সরাসরি ৩বি চ্যানেলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের ১৫ জুলাই রাশিয়ার তৈরি সয়ুজ এমএস-২৯ স্পেসক্রাফ্টে চড়ে সফলভাবে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কৃতি নভোচারী। পেশায় একজন ইমার্জেন্সি মেডিসিন ফিজিসিয়ান অনিল মেনন তাঁর এই আট মাস দীর্ঘ প্রথম মহাকাশ অভিযানে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি মহাকাশচারীদের শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বেও রয়েছেন। ২০২১ সালে তাঁকে মহাকাশ অভিযানের জন্য নির্বাচিত করার পর দীর্ঘ দুই বছর কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য এবং ঐতিহাসিক স্পেসওয়াক বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।