মসনদে বসতেই বড় ধাক্কা শুভেন্দু সরকারের! তিলজলা কাণ্ডে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, কী ঘটল?

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবগঠিত শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সামনে প্রথম বড় আইনি চ্যালেঞ্জ চলে এলো। তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেআইনি সম্পত্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরকারি তৎপরতার ওপর এবার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত সম্পত্তি কোনোভাবেই বুলডোজার দিয়ে ভাঙা যাবে না। বঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম কোনো বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপে আইনি ধাক্কা খেতে হলো, যা নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত তিলজলার একটি বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইন নিজের পথেই চলবে, কিন্তু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হওয়ার আগে কোনো সম্পত্তি ভাঙা যাবে না। একই সঙ্গে আদালতের তরফ থেকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয়েছে যে, বিতর্কিত ওই নির্দিষ্ট জায়গায় আপাতত কোনো রকম কারখানা বা বাণিজ্যিক কাজকর্ম চালানো যাবে না।

অবশ্য বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা বা পুলিশের আইনি পদক্ষেপ করার এক্তিয়ার পুরোপুরি কেড়ে নেয়নি আদালত। কলকাতা হাইকোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম অনুযায়ী কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসন যেকোনো বেআইনি নির্মাণ বা কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারবে। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ভাঙচুরের মতো চরম পদক্ষেপ মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে করা যাবে না। এই মামলার সঙ্গে জড়িত সমস্ত বিবাদীপক্ষকে আগামী দিনে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে আদালতে হলফনামা বা অ্যাফিডেভিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২২ জুন।

এদিন মামলার রায় ও পর্যবেক্ষণ দিতে গিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং বেআইনি আবাসন নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সময়ে সমস্ত জায়গায় যেভাবে দেদার অবৈধ নির্মাণ কাজ চলছে, তাতে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর একটা স্থায়ী বিহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।” বিচারপতির এই কড়া পর্যবেক্ষণকে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে সমর্থন জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতের এই স্থগিতাদেশের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এবং কলকাতা পুরসভা আইনি দিক বজায় রেখে আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy