মমতা-র গড়ে ফাটল! বাঁকুড়া পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরেই বড় বিদ্রোহ, কোণঠাসা পুরপ্রধান

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের কর্মী—সর্বত্রই যেন বিদ্রোহের দাবানল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা একে একে দলত্যাগ করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের পুরসভাগুলোতেও। কলকাতা থেকে ব্যারাকপুর, তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়া পুরসভার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এবার সেই একই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে বাঁকুড়া পুরসভা।

বাঁকুড়া পুরসভার অন্দরে এখন কার্যত টালমাটাল অবস্থা। ২৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ২১ জনই তৃণমূলের দখলে থাকলেও, দলের অভ্যন্তরেই ফাটল ধরেছে। গতকাল উপ-পুরপ্রধানসহ তৃণমূলের ১৬ জন বিদ্রোহী কাউন্সিলার জেলা শাসকের দপ্তরে গিয়ে পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এতদিন পর্যন্ত এই পুরসভার মসনদে আসীন ছিলেন অলকা সেন মজুমদার, কিন্তু তাঁর ‘একনায়কতন্ত্র’ এবং দলের আদর্শের পরিপন্থী আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন খোদ দলেরই একাংশ।

বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছেন। এমনকি বিগত বোর্ড মিটিংয়ে তিনি কাউন্সিলরদের বিজেপির নির্দেশমতো এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন। তৃণমূলের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে এই আপসকামিতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কাউন্সিলররা। যদিও পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার এই অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এদিকে পুরসভার এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১০-এ নেমে এল। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক, যাকে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় মনোনীত করেছিলেন, তিনিও দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একসময়ের প্রভাবশালী এই নেতার পদত্যাগ তৃণমূল শিবিরে বড়সড় কম্পন তৈরি করেছে।

পরপর দুটি ঘটনার এই সমাপতন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কি সত্যিই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে? তৃণমূলের ওপর থেকে কি তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন দলনেত্রী? একদিকে পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে সংসদীয় রাজনীতিতে ক্রমাগত সাংসদদের দলত্যাগ—এই জোড়া সংকটে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল যদি দ্রুত এই বিদ্রোহ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্যের আরও অনেক পুরসভা ও রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy