পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির মঞ্চে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। একসময় যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল, সেখানে এখন সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে নারী সংরক্ষণ বিল এবং আসন পুনর্নির্ধারণের মতো জাতীয় ইস্যুগুলো বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে রাতারাতি বদলে দিয়েছে।
নির্বাচনের শুরুতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বিশেষ করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিলেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঘোষণা করেন যে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো জোটের প্রয়োজন নেই, তখন ইন্ডিয়া ব্লকের সমীকরণ উপেক্ষা করেই কংগ্রেস এককভাবে লড়াই করার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। গত ১৪ই এপ্রিল রাহুল গান্ধী মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং রায়গঞ্জে জনসভা করে বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয়কেই নিশানা করেছিলেন।
তবে নেপথ্যে চলছিল অন্য অঙ্ক। রাহুল গান্ধীর আপত্তি সত্ত্বেও নারী সংরক্ষণ বিলে তৃণমূলের ২১ জন সাংসদ ভোট দেওয়ায় এবং সাংবিধানিক সংশোধনের বিরোধিতা করায় কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের মন গলে যায়। জানা গেছে, বিলটি বাতিল হওয়ার পর খোদ সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন এবং রাহুল গান্ধী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান। এরপরই বদলে যায় ছবিটা। ১৪ই এপ্রিলের পর রাহুল গান্ধী বাংলায় আর কোনো প্রচার চালাননি, এমনকি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পূর্বনির্ধারিত সমস্ত সফরও বাতিল করা হয়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম দফার প্রচারের শেষ দিনেও গান্ধী পরিবারের কোনো সদস্যকে বাংলায় দেখা যায়নি। রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তিনি কোনোভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে দুর্বল করতে চান না। তাঁর মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও ১৪ই এপ্রিলের বক্তৃতায় তিনি মমতার বিরুদ্ধে কিছু শব্দ খরচ করেছিলেন, কিন্তু দিল্লির নির্দেশে এখন সেই সুর নরম হয়েছে।
এই ঘটনায় সবথেকে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলীয় নেতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর সমালোচক অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পাঁচবারের সাংসদ অধীর বাবুকে এবার বহরমপুর আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠান। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই কৌশলগত পরিবর্তন এবং মমতার প্রতি নরম মনোভাব অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থানে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। টিভি৯-এর একটি সাক্ষাৎকারেও এই পরিবর্তনের কথা শুনে তাঁকে বেশ বিচলিত হতে দেখা গেছে। বাংলার মাটিতে কংগ্রেস এখন আক্ষরিক অর্থেই এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।





