পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আকাশে এখন গভীর কালো মেঘ। চরম রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের ক্ষোভ যে আগ্নেয়গিরির আকার ধারণ করেছে, তার প্রমাণ মিলল সরাসরি। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে এনডিএ-কে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপ দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে যেমন নড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই বিধানসভার অন্দরেও মমতার টিকে থাকার লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কেন এই বিদ্রোহ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই এই বিদ্রোহ। এনডিএ-তে সমর্থন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল আকস্মিক নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে অনেক দিন ধরে চলা টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পরিণতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই বিদ্রোহের ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরে এখন অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডাকবেন কি না, বা বিদ্রোহীদের মানাতে কোনো বিশেষ বার্তা দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে, এই বিদ্রোহী সাংসদদের ভূমিকা তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে।





