“মমতাদি হাত ধরে এনেছিলেন, তবে…” পুরনো দল ছাড়ার কারণ স্পষ্ট করলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পালাবদলের এই আবহে দলবদল নিয়ে এবার অত্যন্ত খোলামেলা মন্তব্য করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের আয়োজিত ‘ভারতমাতার পুজোয়’ অংশ নিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
রচনার সাফ কথা, রাজ্যে পুরনো দল জিতলে তিনি দলেই থেকে যেতেন। তবে দল হেরে যাওয়ার পর হাত গুটিয়ে বসে থাকার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সোজা কথা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বোঝেন না, মানুষের জন্য কাজ করতে চান এবং সেই কাজের তাগিদেই বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের সঙ্গে হাত মেলাতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই।
পুরনো দলের বিরুদ্ধে ফাণ্ডিং নিয়ে ক্ষোভ
অনুষ্ঠানে মুখ খুলে রচনা দাবি করেন, তৃণমূলে থাকাকালীন সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে তাঁকে বারবার অর্থের সংকটের মুখে পড়তে হতো। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না কিংবা রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই—এমন নানা অজুহাত শুনতে শুনতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই ‘অভিযোগের রাজনীতি’ ছেড়ে তিনি এখন পুরোপুরি ‘কাজের রাজনীতিতে’ বিশ্বাসী।
তাঁর কথায়, বলাগড়ের নদী ভাঙন রোধ বা রেলের সমস্যা সমাধানের মতো একাধিক বিষয়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের দড়ি টানাটানির বেড়াজাল কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়নের জন্য ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আরবানা বিতর্ক
রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার কথা ভুলতে চাননি রচনা। তিনি স্বীকার করেছেন যে মমতাদিই তাঁর হাত ধরে রাজনীতিতে এনেছিলেন এবং তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজের তাগিদেই তাঁর পথ আলাদা হয়েছে। একইসঙ্গে, সাম্প্রতিককালে নিজের ‘আরবানা’ ফ্ল্যাট সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। খানিকটা আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে নিজের ও বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ করলেও ওই মন্তব্য না করলেই হয়তো ভালো হতো। সব মিলিয়ে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অকপট স্বীকারোক্তি ও বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আসন্ন ও সাম্প্রতিক নির্বাচন সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ফলাফল পোর্টাল অথবা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ।