“সিকিউরিটি গার্ড থেকে সোজা পাক জঙ্গি যোগ!”-বাদুড়িয়ার যুবকের কাণ্ডে পরিবারে কান্নার রোল

বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করতে গিয়ে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বাংলার এক যুবক। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা ২৫ বছরের আশাফুল মালিককে গত ১১ অগাস্ট কর্নাটকের হেব্বাগোড়ি থানার পুলিশ বোম্মাসান্দ্রা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা থেকে আটক করে। এই গ্রেপ্তারি সংবাদে স্বাভাবিকভাবেই আকাশ থেকে পড়েছেন ধৃত যুবকের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, পড়াশোনায় ভালো এই ছেলে এমন নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারছেন না।

গোবরডাঙা কলেজের স্নাতক থেকে সিকিউরিটি গার্ড

বাদুড়িয়া থানার নোয়াপাড়ার যশাইকাটি আটঘরা গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা আশাফুলের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সে গোবরডাঙা কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছিল। এরপর সরকারি চাকরির জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে সে। সিআরপিএফ থেকে শুরু করে ডব্লিউবিসিএস (WBCS) এবং নানা চাকরির পরীক্ষা দিলেও সরকারি চাকরি তার কপালে জোটেনি। দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার ফলে চরম হতাশা তৈরি হয়। পরিবার ও কাকার দাবি, বাধ্য হয়েই প্রায় দেড় বছর আগে সে বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দেয় এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। এই দেড় বছরে সে আর বাড়ি ফেরেনি।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জঙ্গি সংযোগের জাল

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইমরান হায়দার নামে এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে আশাফুল। ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের টিটিপি (TTP) বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। হায়দারের হাত ধরেই পাকিস্তানের এই নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আশাফুলের যোগাযোগ তৈরি হয়। এমনকি তার আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। ছেলের এই গ্রেফতারে হতবাক মা ফিরোজা বিবি ও কাকা মোকসেদ মল্লিক। তাঁদের সাফ কথা, অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো স্বভাবের ছেলে একসময়ে আর্মির চাকরির পরীক্ষাও দিয়েছিল, সে কীভাবে এমন দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়াল, তা তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য।

অতীতেও শিরোনামে এসেছে বাদুড়িয়া

প্রসঙ্গত, এর আগেও উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকা জঙ্গি বা চর যোগের অভিযোগে শিরোনামে এসেছে। ইতিপূর্বে বাদুড়িয়ার মলয়াপুর থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক কলেজ ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনার জওয়ানদের হানি ট্র্যাপে ফেলে তথ্য পাচারের অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবা যোগের প্রমাণ মেলায় সেই মামলার তদন্তভার নিয়েছিল এনআইএ (NIA)। এ বার ফের বাদুড়িয়ার এক যুবকের নাম জঙ্গিযোগে জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।