“অপরাধীদের সবার ফাঁসি চাই!” নির্মল ঘোষের বিচার ও পানিহাটির দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা রত্নার

পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি এবং বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল অব্যাহত। গত শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর শনিবার এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর সাফ কথা, অন্যায় করলে অভিযুক্তেরা আইনের পথেই কঠোর শাস্তি পাবেন এবং কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন।

অপরাধীদের ফাঁসি দাবি ও ক্ষোভ

নির্মল ঘোষের গ্রেফতারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রত্না দেবনাথ জানান, যাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁরা একে একে ধরা পড়বেন এবং পুলিশ-প্রশাসন এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে, দোষীদের চরমতম শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি। আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি হওয়া উচিত এবং কেবল জেল হেফাজতে রাখলেই বিচার সম্পূর্ণ হয় না।

পানিহাটিতে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

তদন্তে নতুন মোড় আসার পাশাপাশি রত্না দেবনাথ নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে পানিহাটি এলাকা ঘিরে একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় নির্বিচারে পুকুর ভরাট থেকে শুরু করে নানা ধরনের অনিয়ম চালানো হয়েছে। এমনকি পানিহাটিকে কার্যত ‘বিক্রি করে দেওয়ার’ মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের প্রশাসনকে বারবার এই সমস্ত অনিয়মের কথা জানানো হলেও সেভাবে কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি।

গ্রেফতারি ও আদালতের নির্দেশ

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে মৃতদেহ দ্রুত সৎকার করে প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগে নাম জড়ানোর পরই ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তাঁর সঙ্গে তৎকালীন কাউন্সিলার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেফতা করা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও কাদা ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী তদন্তে আর কোন কোন তথ্য সামনে আসে, এখন সে দিকেই নজর সকলের।