২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার মহাজোটের সমীকরণ ছাপিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে অবতীর্ণ রাহুল গান্ধী। শনিবার কলকাতায় এক নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে আক্রমণ করলেন তিনি। দুর্নীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা—প্রতিটি ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপিকে একাসনে বসিয়ে রাহুল বুঝিয়ে দিলেন, বাংলায় কংগ্রেস ও বামপন্থীরাই আসল বিকল্প।
“মমতার বিরুদ্ধে কেন মামলা হয় না?”
এদিন ভাষণের শুরুতেই রাহুল গান্ধী নিজের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা করা হয়েছে, আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ED। এমনকি আমার সাংসদ পদ এবং সরকারি বাসভবনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমি এখন জামিন নিয়ে বাইরে আছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেয় না বিজেপি? কেন তাঁকে ছোঁয়া হয় না?” রাহুলের এই প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে ফের ‘মোদি-মমতা সেটিং’ জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।
আদানি বনাম সারদা-রোজভ্যালি
দুর্নীতি ইস্যুতে আক্রমণ শানাতে গিয়ে রাহুল এক বিস্ফোরক তুলনা টেনে আনেন। তাঁর কথায়, “দিল্লিতে মোদির যদি আদানি থাকে, তবে এ রাজ্যে তৃণমূলের আছে সারদা ও রোজভ্যালি। সারদা-রোজভ্যালির মাধ্যমে গরিব মানুষের কষ্টের টাকা লুঠ করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নরেন্দ্র মোদি যা করছেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক সেটাই করছেন।
চাকরি ইস্যুতে ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’র অভিযোগ
বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে মোদি ও মমতা—উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান রাহুল।
মোদি বনাম মমতা: “মোদি বলেছিলেন বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন, আর মমতা বলেছিলেন ৫ লক্ষ সরকারি চাকরি দেবেন। কেউই কথা রাখেননি।”
রাহুল সাফ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলায় বেকারত্ব রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং তিনি আসলে বিজেপির জন্য বাংলায় পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছেন।
কলকাতার সভা থেকে রাহুল গান্ধীর এই দ্বিমুখী আক্রমণ স্পষ্ট করে দিল যে, আসন সমঝোতা বা জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ যাই হোক না কেন, বাংলার লড়াইয়ে তৃণমূলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড।




