২০২৬-এর বঙ্গ সমরে প্রথম দফাতেই বাজিমাত! গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে যে ভোট পড়েছে, তার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আর সেই তথ্যে যা উঠে এসেছে, তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। প্রথম দফায় রাজ্যে মোট ভোটের হার রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ। আর এই বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ‘মহিলা ভোট’।
মহিলা ভোটেই কি ভাগ্যবদল?
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় মোট ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মহিলা ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
মুর্শিদাবাদে নারীশক্তির গর্জন: প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি মহিলা ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায় (২৩,৩৫,১৯০ জন)।
এছাড়া দুই মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও মহিলাদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’—এই দুই প্রকল্পের লড়াইয়ে মহিলারা কোন দিকে ঝুঁকেছেন, তার ওপরই নির্ভর করছে মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর ভাগ্য।
একনজরে প্রথম দফার ভোটচিত্র (জেলাভিত্তিক হার):
বাংলার প্রতিটি জেলাতেই ভোটের হার এবার ৯০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোচবিহার জেলা ৯৬.২% ভোট দিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
| জেলা | ভোটের হার (%) | জেলা | ভোটের হার (%) |
| কোচবিহার | ৯৬.২% | মুর্শিদাবাদ | ৯৩.৬৭% |
| দক্ষিণ দিনাজপুর | ৯৫.৪৪% | পূর্ব মেদিনীপুর | ৯২.৭৫% |
| জলপাইগুড়ি | ৯৪.৭৬% | বাঁকুড়া | ৯২.৫৫% |
| বীরভূম | ৯৪.৫১% | পুরুলিয়া | ৯১.৫৯% |
পার্থি ও কেন্দ্র সমাচার
প্রথম দফায় মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য ইভিএম-এ বন্দি হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:
বৃহত্তম কেন্দ্র: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর (ভোটার সংখ্যা ২,৯৬,০৪৫)।
ক্ষুদ্রতম কেন্দ্র: মুর্শিদাবাদের শামশেরগঞ্জ (ভোটার সংখ্যা ১,৬১,৪৩৫)।
পুরো ভোট প্রক্রিয়াটি ৪৪,৩৭৬টি পোলিং স্টেশনে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৯৩ শতাংশের বেশি এই বিপুল ভোটদান কি শাসকদলের পক্ষে ‘প্রো-ইনকাম্বেন্সি’ নাকি বিরোধী শিবিরের জন্য ‘সাইলেন্ট ওয়েভ’? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।





