খাস নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন অভিজ্ঞতার মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! সভার সবরকম সরকারি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের ‘মাইক-সন্ত্রাসে’ কার্যত কথা বলতে পারলেন না তিনি। মাত্র সাড়ে চার মিনিটের মাথায় ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করে জনসভা অসম্পূর্ণ রেখেই মঞ্চ ছাড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শনিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডের এই ঘটনা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়।
কী হয়েছিল সেই সাড়ে ৪ মিনিটে?
চক্রবেড়িয়া রোডের স্বামী নারায়ণ মন্দিরের কাছে তৃণমূলের এই স্ট্রিট কর্নার সভার জন্য আগে থেকেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন, দেখা যায় সভার একদম উল্টো দিকে মুখ করে বিরোধী শিবিরের একটি মাইক কানফাটানো আওয়াজে বাজছে। বারবার বলা সত্ত্বেও মাইকের মুখ ঘোরানো বা আওয়াজ কমানো হয়নি।
মঞ্চে দাঁড়িয়েই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর থানার আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তো অফিসিয়াল পারমিশন নিয়ে করছি। একটু দয়া করে দেখুন, মাইক্রোফোনটা বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের দিকে মুখ করে বাজানো হচ্ছে।”
ইংরেজি-বাংলায় চরম উষ্মা প্রকাশ
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মমতার কথা মাইকের আওয়াজে চাপা পড়ে যাচ্ছিল। মেজাজ হারিয়ে তিনি ইংরেজিতে বলেন:
“I have taken all official permission. After that you see, the attitude. Whatever they are doing forcefully to capture Bengal, this is wrong.”
এরপরই বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আমরা এই অসভ্যতামি করি না। বাংলায় এই কালচার চলবে না। এটা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা।”
ক্ষমা চেয়ে মঞ্চ ত্যাগ ও আগামিকালকের হুঁশিয়ারি
সভা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব বুঝে দর্শকদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন নেত্রী। তিনি বলেন, “মা, ভাই-বোনেরা আমায় ক্ষমা করবেন। আমি এই অপমান সহ্য করে সভা করতে পারব না। এটা খুব ইনসাল্টিং। কাল আমি এখানে র্যালি (মিছিল) করে দেব।” এরপরই উপস্থিত জনতাকে এই অপমানের জবাব ব্যালট বক্সে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মাত্র ৪ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের মাথায় মঞ্চ ছাড়েন তিনি।
বেহালায় ‘জয় বাংলা’ বনাম বামেদের মিছিল
চক্রবেড়িয়া ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান বেহালা চৌরাস্তার সভায়। তবে সেখানেও ছিল নাটকীয় পরিস্থিতি। মমতার পৌঁছানোর আগেই সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল সিপিএম প্রার্থী নীহার ভক্ত ও বৃন্দা কারাতের মহামিছিল। বামেদের মিছিল দেখেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। সব মিলিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার রাজপথ ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ।





