ভোট হওয়ার আগেই কি ভোট হয়ে গিয়েছে? উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ভূমিকা নিয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কী সেই অভিযোগ?
নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের (১০৭ নম্বর আসন) বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের দাবি, ব্যারাকপুর মহকুমা জুড়ে ভোটার স্লিপ বিলি নিয়ে চূড়ান্ত টালবাহানা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:
ভোট হয়ে যাওয়ার গুজব: ভোটারদের একাংশকে জানানো হচ্ছে যে তাঁদের ভোট নাকি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আগেই পড়ে গিয়েছে।
স্লিপ নিয়ে লুকোচুরি: অনেক ক্ষেত্রে ভোটার স্লিপ ঠিকমতো বিলি করা হচ্ছে না। ভোটাররা চাইলে বলা হচ্ছে, উপর থেকে পর্যাপ্ত স্লিপ আসেনি।
“সবটাই সুপরিকল্পিত ছক”
অর্জুন সিং সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভোটারদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে তাঁদের বুথমুখী হওয়া থেকে আটকানোর জন্যই এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ করা হয়েছে। ব্যারাকপুর মহকুমার একাধিক এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি
বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অর্জুন সিং ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন এবং সিইও-র (CEO) কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কমিশনকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিএলও-রা কেন এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তার জবাব চাই।”
ভোটের মুখে স্লিপ বিতরণ এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে এই ‘ধোঁয়াশা’ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তাপকে যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।





