মনোনয়ন জমা দিতেই গ্রেপ্তার প্রার্থী! বাঁকিপুরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, হুঙ্কার তেজ প্রতাপের

পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা আসনের রাজনীতিতে সোমবার এক নাটকীয় মোড় এল। জেজেডি (জনশক্তি জনতা দল) প্রার্থী বীণা মানভী নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন। এই ঘটনায় বিহারের রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের একটি পুরনো ৪২০ ধারার জালিয়াতি মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট ছিল বীণা মানভীর নামে। সেই ওয়ারেন্ট মেনেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্বাচনের মুখে প্রার্থীর এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন জনশক্তি জনতা দলের সভাপতি তেজ প্রতাপ যাদব। বর্তমানে দিল্লিতে থাকা তেজ প্রতাপ এই ঘটনাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তাঁর সাফ কথা, “এটা সরকার পরিচালিত একটি গভীর চক্রান্ত। তারা আমাদের প্রার্থীকে সরিয়ে দিতে চাইছে, তবে এই ষড়যন্ত্র বেশিদিন টিকবে না।” দ্রুত বিহারে ফেরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের মাটিতে পা রেখেই আমি আমার ‘সুদর্শন চক্র’ ব্যবহার করব। বর্তমান সরকারকে আমি সব দিক থেকে কোণঠাসা করে ছাড়ব।” এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে তিনি যে আইনি লড়াইয়ে নামছেন, তা-ও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।

দলের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জনশক্তি জনতা দলের দাবি, “মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই পুলিশি পদক্ষেপ অত্যন্ত নিন্দনীয়। বীণা মানভীকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁর নির্বাচনী প্রচার প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক নিদর্শন।”

দলীয় সভাপতির গলায় দৃঢ়তার সুর। তেজ প্রতাপ যাদব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি বীণা মানভীর পাশে ঢালের মতো দাঁড়িয়ে আছি। বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে আমাদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।” বাঁকিপুর বিধানসভার সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রেখে তেজ প্রতাপ আরও বলেন, “জনগণ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছেন। এই অন্যায় লড়াইয়ে আমাদের জয় নিশ্চিত।”

বীণা মানভীর গ্রেপ্তারিতে বাঁকিপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী আবহ এখন সম্পূর্ণ অগ্নিগর্ভ। একদিকে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া এবং অন্যদিকে তেজ প্রতাপ যাদবের রাজনৈতিক হুঙ্কার—এই দ্বৈরথ এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে বিহারের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। শাসকদল কিংবা প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও, বিরোধীদের এই ‘ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব’ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, মনোনয়ন জমার পর এই আইনি জটিলতা কাটিয়ে বীণা মানভী নির্বাচনী ময়দানে টিকে থাকতে পারেন কি না।