‘নো কস্ট ইএমআই’-এর ফাঁদে সর্বনাশ! ০% সুদের আড়ালে কত বড় আর্থিক ক্ষতি? জেনে নিন আসল সত্য

বর্তমান যুগে শপিং মল থেকে অনলাইন ওয়েবসাইট—সব জায়গায় চোখ পড়লেই দেখা যায় ‘নো কস্ট ইএমআই’ (No Cost EMI)-এর ঝলমলে বিজ্ঞাপন। ০% সুদের হার দেখে অনেকেই ভাবেন, এককালীন টাকা না দিয়ে কিস্তিতে দাম মেটানোই তো লাভজনক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘ফ্রি’ লোন বা সহজ কিস্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু আর্থিক ফাঁদ, যা আপনার সঞ্চয়কে তিলে তিলে শেষ করতে পারে।

সাধারণত, নো কস্ট ইএমআই মানে হলো পণ্যের মোট দামকে কয়েক মাসের কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়া। কোম্পানিগুলোর দাবি, এর জন্য কোনো অতিরিক্ত সুদ গুনতে হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো যদি সুদ না নেয়, তবে তাদের লাভ কোথায়? এখানেই লুকিয়ে আছে আসল রহস্য। অনেক সময়, গ্রাহক যদি সরাসরি পণ্যটি কিনতেন, তবে যে ছাড় (Discount) পাওয়া যেত, কিস্তিতে কেনার ক্ষেত্রে সেই ছাড় কমিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, থাকে লুকানো প্রসেসিং ফি।

সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে যখন গ্রাহকরা ইএমআই-এর অঙ্ক ছোট দেখে অপ্রয়োজনীয় দামি পণ্য কিনে ফেলেন। ২০ হাজার টাকার বাজেটের বদলে ৩০ হাজারের ফোন কেনা—এটিই ইএমআই-এর নেশায় মানুষ সবচেয়ে বেশি করেন। ছোট ছোট অনেকগুলো কিস্তি মিলে মাস শেষে পরিবারের বাজেট এলোমেলো করে দেয়। এছাড়া, কিস্তি দিতে দেরি হলে বিশাল অঙ্কের লেট ফি এবং সিভিল (CIBIL) স্কোরে বড় প্রভাব পড়ে, যা ভবিষ্যতে হোম লোন বা গাড়ি লোনের পথে বাধা হতে পারে।

নো কস্ট ইএমআই-এর নামে গোপন খরচগুলো জানলে শিউরে উঠতে হয়। পণ্যের দামের ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST), প্রসেসিং ফি এবং প্রি-ক্লোজার চার্জ সব মিলিয়ে দেখা যায়, তথাকথিত জিরো ইন্টারেস্ট আসলে বার্ষিক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদের সমান। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইম্পালস বায়িং’। বিজ্ঞাপন দেখে মস্তিষ্ক মনে করে খরচটি খুব ছোট, ফলে মানুষ সহজেই ঋণের চক্রব্যূহে জড়িয়ে পড়ে।

তবে নো কস্ট ইএমআই কি সবসময় খারাপ? উত্তর হলো—না। যদি আপনার কাছে পুরো টাকাটা হাতে থাকে কিন্তু আপনি তরল মূলধন ধরে রাখতে চান, তবেই এটি কার্যকর। কেনার আগে অবশ্যই পণ্যের চূড়ান্ত দাম, প্রসেসিং ফি এবং শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়ুন। মনে রাখবেন, আকর্ষণীয় অফার দেখে নয়, বরং নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য বুঝে কেনাকাটা করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।