রাজ্যের মদের দোকানের লাইসেন্স সংক্রান্ত নীতিতে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবগারি দপ্তরের লাইসেন্স প্রদানের নিয়মাবলীতে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নতুন নীতিতে কী কী বদল? মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মদের দোকানের লাইসেন্স পাওয়ার পদ্ধতিকে আরও বেশি আধুনিক ও সুগম করা হবে। নতুন নীতিতে যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে চলেছে:
স্বচ্ছতা ও অনলাইন ব্যবস্থা: লাইসেন্স প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফি ও কর কাঠামো: মদের দোকানের লাইসেন্স ফি এবং বার্ষিক নবীকরণ সংক্রান্ত নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে, যা দোকানের মালিকদের জন্য বাড়তি স্বস্তি দেবে।
অবস্থান ও দূরত্ব বিধি: স্কুল, কলেজ বা ধর্মীয় স্থান থেকে মদের দোকানের দূরত্ব সংক্রান্ত নীতিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও কঠোর করা হয়েছে, যাতে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না হয়।
জোনভিত্তিক বরাদ্দ: এলাকাভিত্তিক জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং মদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কেন এই রদবদল? রাজ্য প্রশাসনের মতে, এতদিন এই নীতি কিছুটা পুরনো ছিল, যার ফলে অনেক সময় অসাধু উপায়ে লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগ উঠত। নতুন নীতি কার্যকর হলে একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের কোষাগারে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে বেআইনি মদের রমরমা কারবার নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে।
প্রশাসনিক নির্দেশ: ইতিমধ্যেই আবগারি দপ্তরকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত এই নতুন নীতি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পরিকাঠামো তৈরি করতে। খুব শীঘ্রই এই নতুন নিয়মাবলির বিস্তারিত সরকারি গ্যাজেট প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে অনেকেই একে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যদিকে লাইসেন্স পাওয়ার শর্তাবলী নিয়ে অনেকে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।





