মতুয়াগড়ে উত্তপ্ত রাজনীতি, ‘পলাতক মন্ত্রী’র গ্রেফতারি চাইলেন মমতা, CAA-এর নামে ‘ব্যবসা’র অভিযোগে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বনগাঁর মতুয়া গড় উত্তপ্ত হয়ে উঠল। চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত পদযাত্রা এবং বনগাঁয় জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তিনি নাম না-করে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ তোলেন যে, ‘মোদির মন্ত্রিসভার এক সদস্য নিজেকে বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।’ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান।

‘বিদেশে গা ঢাকা’ দেওয়ার অভিযোগ:

সম্প্রতি তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শান্তনু ঠাকুরের একটি লন্ডন সফরের ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন:

  • ওই মন্ত্রী ১০০ টাকার বিনিময়ে ধর্মীয় কার্ড এবং সিএএ-র (CAA) নামে আটশো টাকা তুলেছেন।

  • টাকা তোলার পর সেই নেতা এখন বিদেশে ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন।

  • মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “যাঁরা মানুষের থেকে টাকা তুলে তাঁদের বাংলাদেশি প্রমাণ করার চক্রান্ত করল, তাঁরা এখন কোথায়?”

  • তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যতই সেভ করার চেষ্টা করুন, রেকর্ড কিন্তু আমরা পেয়ে গেছি। আমরাও কিন্তু যদি কেউ অন্যায় করে তাঁর গ্রেফতারের দাবি তুলব।”

মতুয়াদের প্রতি মমতার সতর্কতা:

মুখ্যমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “১০০ টাকা দিয়ে সংঘের সদস্য হওয়ার কার্ড বা আটশো টাকার ফর্ম ফিল-আপ করা মানেই নিজেকে ‘বিদেশি’ বা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নথিবদ্ধ করা।” তাঁর যুক্তি, “২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে কেন আপনি লিখবেন যে আপনি আগে বাংলাদেশি ছিলেন? এটা করলেই তো আপনারা নিজেদের নাগরিকত্ব হারাবেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মের নামে এই ‘ব্যবসা’ করে মতুয়াদের ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে।

পদযাত্রা ও বড়মার প্রসঙ্গ:

এসআইআর-এর বিরোধিতায় মুখ্যমন্ত্রী চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পদযাত্রা করেন। মিছিলে তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর মমতার সঙ্গে ছিলেন। মিছিল শেষে মমতা বলেন, “জনতার ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। গণতন্ত্রবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে এই জনজোয়ার প্রমাণ করে বাংলা ভয় পায় না।”

মতুয়া আবেগকে ছুঁয়ে তিনি বড়মা বীণাপাণি দেবীর চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, “বড়মা যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন আমিই তাঁকে ছ’বার বেলভিউতে ভর্তি করিয়েছি। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় আমরা তৈরি করেছি। তখন এই বিজেপি নেতারা কোথায় ছিলেন?” তিনি নিজেকে বনগাঁর মানুষের ‘পাহারাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে অভয় দেন যে, তিনি থাকতে কারও নাগরিকত্ব কাড়তে দেওয়া হবে না।