বিক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, মৃত যুবকের চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগে বারাসাতে পথ অবরোধ, পরে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার বনগাঁয় জনসভা সেরে ফেরার পথে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কাছে বিক্ষোভের মুখে পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়। পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক যুবকের চোখ মর্গে খুবলে নেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে প্রথমে বিক্ষোভ চলছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আসার পরই তা পথ অবরোধে পরিণত হয়।

জানা গেছে, মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের মর্গে দেহ থাকাকালীন অজ্ঞাত কারণে যুবকের চোখ খুবলে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কনভয় থামিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেন। এরপরই বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

বনগাঁর জনসভা থেকে মমতার হুঁশিয়ারি:

এর আগে বনগাঁর মতুয়াগড়ে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। এসআইআর (SIR) নিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে তিনি বলেন:

  • ‘আমাকে আঘাত করলে, সারা ভারতবর্ষ হিলিয়ে দেব, দিল্লি কেড়ে নেব, আগামি ভোটে গুজরাত হারবে।’

  • তিনি বলেন, চিরকাল সরকারে কেউ থাকে না, ২০২৯ খুব ভয়ঙ্কর, সেদিন কোথায় পালাবে, জায়গা ঠিক করে রেখে দাও।

  • তৃণমূল নেত্রী জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট শেষ হলেই তিনি ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করবেন এবং ‘ভোটের পর আমিও দেশটা চষে বেড়াব।’

শুভেন্দুর পাল্টা কটাক্ষ:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আগে ভবানীপুর জিতুন, তারপর দিল্লি…”।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলাফল জাতীয় রাজনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের জুটি বাংলায় জয়ধ্বজা তুলতে পারে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়রথ বহাল থাকে, সেদিকেই এখন গোটা দেশের নজর।