কাঁচের গ্লাসের টুংটাং থেকে সুর! অকাল প্রয়াত ‘পঞ্চম’-এর জাদুকরী জীবনের অজানা গল্প

২৭ জুন ভারতীয় সংগীতের অন্যতম কালজয়ী সুরকার আর ডি বর্মন তথা ‘পঞ্চম’-এর জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৯ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক সচিন দেব বর্মণ ও গীতিকার মীরা দেব বর্মণের পুত্র রাহুল দেব বর্মণ। বাবার হাত ধরেই সংগীতের হাতেখড়ি, তবে পরবর্তীকালে নিজের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে তিনি ৬০-এর দশকে ভারতীয় সিনেমার গানে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।
১৯৬৬ সালে ‘তিসরি মঞ্জিল’ ছবির মাধ্যমে স্বতন্ত্র সংগীত পরিচালক হিসেবে পথচলা শুরু হয় তার। এরপর ‘শোলে’, ‘মেরে সপনো কি রানি’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’—এর মতো একের পর এক অমর গান উপহার দিয়েছেন তিনি। আর ডি বর্মণের সংগীত তৈরির পদ্ধতি ছিল অনন্য। গ্লাসের টুংটাং শব্দ থেকে শুরু করে বৃষ্টির ফোঁটা কিংবা মানুষের শরীরের বিভিন্ন আওয়াজ—সবকিছুকেই তিনি সুরে রূপান্তর করতে পারতেন। তার তৈরি অন্তত ৩৩১টি চলচ্চিত্রের সংগীত আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে উজ্জ্বল।
ক্যারিয়ারের সাফল্যের তুঙ্গে থাকলেও জীবনের শেষ সময়ে তিনি চরম একাকীত্বে ভুগেছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর তার সংগীতের ঝরনা প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছিল তার শেষ অনবদ্য সৃষ্টি। ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি সুরের এই জাদুকর না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। আজ তার জন্মবার্ষিকীতে সংগীতপিপাসুরা তাকে স্মরণ করছেন গভীর শ্রদ্ধায়।