ভোরের আলো ফুটতেই রণক্ষেত্র হাওড়ার নার্সিংহোম! চিকিৎসকের অভাবে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

হাওড়ার জগাছায় এক সদ্যোজাত শিশুর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে এবং এর জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে মৃতের পরিবার ও বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট জগাছার মুন্সিডাঙ্গার ‘এসআর হেলথ কেয়ার’ (SR Health Care) নামক একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ডোমজুড়ের ডাসির বাসিন্দা জাহিমা খাতুন। এরপর গত ৯ আগস্ট সুস্থ অবস্থাতেই সদ্যোজাত সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন প্রসূতি। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎ করেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। পরিবারের লোকেরা চরম উদ্বেগের সঙ্গে শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে ওই একই নার্সিংহোমে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত চিকিৎসায় ভর্তি করেন। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টার পরেও শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং আজ সোমবার ভোরে হাসপাতালেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এই মৃত্যুর পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ তোলা হয়েছে। মৃত শিশুটির পরিবারের দাবি, আজ ভোরবেলায় যখন শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল, তখন ওই নার্সিংহোমে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতালের ডিউটিতে কেবল একজন নার্স ও একজন প্যারামেডিকেল স্টাফ উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে কেবল তাঁদের মাধ্যমেই শিশুটির চিকিৎসা চালানো হয়। পরিবারের জোরালো অভিযোগ, চিকিৎসায় এই মারাত্মক গাফিলতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই অবুঝ শিশুটির প্রাণহানি ঘটেছে।

সদ্যোজাতর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা নার্সিংহোমের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হাসপাতালের জানালার কাঁচ, চেয়ার, টেবিল, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং হসপিটালের সিসিটিভি ক্যামেরা সহ যাবতীয় জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। গোটা চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার তীব্রতা বুঝতে পেরে মুহূর্তের মধ্যে জগাছা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সিংহোমের এক চিকিৎসক দাবি করেছেন যে শিশুটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, শিশুটির গলায় খাবার আটকে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়ে থাকতে পারে, যার ফলে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।