ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় অভিষেকের নাম! ডায়মন্ড হারবার থানায় দায়ের চাঞ্চল্যকর লিখিত অভিযোগ

ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে নতুন করে অস্বস্তি দানা বাঁধল। এবার খোদ সর্বভারতীয় তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ডায়মন্ড হারবার থানায়। শুধু অভিষেকই নন, এই অভিযোগের তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। ডায়মন্ড হারবার থানার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সরিষার দুই বিজেপি নেতা ডায়মন্ড হারবার থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই দুই নেতার অভিযোগ, ২০১৯ এবং ২০২২ সালে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হয়েছিলেন তাঁরা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে তাঁরা সরাসরি এই অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই সময়ে তাঁদের ওপর মারধর করা হয়েছিল এবং স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে।
শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের বাড়ি, দোকান এবং গুদামে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। এমনকি, সেই সময় ওই ঘটনাগুলোর পর যখন তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, তখনও পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শাসকদলের দাপটের কারণেই এতদিন তাঁরা আইনি প্রতিকার পাননি। দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে তাঁরা সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তৃণমূলের শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। বিশেষ করে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তারাতলা বিপর্যয় এবং টিনা ভৌমিকের মতো তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের আর্থিক অনিয়মের খবরের মাঝেই অভিষেকের নাম জড়ানোয় শাসকদলকে চাপে ফেলার সুযোগ পেয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল জমানায় পুলিশ শাসকদলের ‘শাখা সংগঠন’ হিসেবে কাজ করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনি জটিলতায় নতুন করে জড়িয়ে পড়তে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ডায়মন্ড হারবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ শাসকদলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ এখন এই দুই লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইতে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়।