ভোটের আগে ৫৮ লাখের বেশি নাম বাদ! SIR খসড়া তালিকা প্রকাশ, তালিকায় নাম দেখবেন কীভাবে?

মাসখানেকের উৎকণ্ঠা শেষে অবশেষে সামনে এল SIR প্রক্রিয়ার খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকা প্রকাশ হওয়ায় সবচেয়ে বড় সংশয় কাটবে কার নাম থাকছে আর কার নাম বাদ গেল। নির্বাচন কমিশন (EC) প্রকাশিত এই খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ যাচ্ছে ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম।
এই তালিকায় আপনার বা আপনার আত্মীয়দের কারও নাম আছে কি না, তা জানা যাবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইটে।
কীভাবে আপনার নাম দেখবেন:
অনলাইন এবং অফলাইন—দুইভাবেই এই তালিকা দেখা যাবে।
১. অনলাইন: * রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে (WB CEO Website) সরাসরি লগইন করুন: ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir * সেখানে আপনার নাম ও ভোটার কার্ডের নম্বর দিলেই আপনি নাম বাদের তালিকায় আপনার নাম আছে কি না, তা জানতে পারবেন। * খসড়ায় কাদের নাম রইল সেই তালিকা দেখতে হলে যেতে হবে কমিশনের মূল ওয়েবসাইটে: https://ceowestbengal.wb.gov.in/
২. অফলাইন: * রাজ্যের সব বিএলও-র (BLO) কাছে খসড়া তালিকার হার্ড কপি থাকবে। * ভোটারেরা নিজের বুথের বিএলও-র কাছে গিয়ে তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের সুবিধার জন্য খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন বিএলও-দের বুথে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। * জেলা স্তর থেকে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) হাতেও দেওয়া হবে হার্ড কপি। তাঁদের কাছ থেকেও তথ্য জানতে পারবেন।
কেন বাদ গেল ৫৮ লক্ষের বেশি নাম?
কমিশন জানিয়েছে, মূলত তিনটি কারণেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে:
মৃত (Deceased)
স্থানান্তরিত (Shifted)
ডুপ্লিকেট (Duplicate)
রবিবার পর্যন্ত মোট ভোটার থেকে নাম বাদ পড়েছে ৫৮,২০,৮৯৮ জনের। বাকি প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকার কথা।
শুনানিতে কারা ডাক পেতে পারেন?
খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই শুরু হবে শুনানির (Hearing) প্রক্রিয়া। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। বিশেষভাবে নজরে আছেন যে ভোটারেরা:
‘নথি-অসঙ্গতি’ যুক্ত ভোটার: যাদের Logical Discrepancies (ধরা পড়া সাতটি অসঙ্গতি) রয়েছে, এমন প্রায় সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে।
‘আনম্যাপড’ ভোটার: প্রায় ৩০ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারকে (যাদের ভৌগোলিক অবস্থান ঠিকভাবে চিহ্নিত হয়নি) শুনানিতে ডাকা হবে।
২০০২-এর তালিকায় নাম নেই: যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নেই বা সেই ভোটার তালিকায় বাবা, মা, দাদু, দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই, এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জনকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে।
৪৫ বছরের বেশি: যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, এমন ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জনকেও নোটিস দিয়ে ডাকা হবে। কারণ, এই ভোটারদের ২০০২ সালে নাম থাকার কথা।
‘১৫ বছরের ফারাক’: ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর।
কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, হেয়ারিংয়ে ডাকা মানেই নাম বাদ পড়বে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল বা তথ্যগত ভুল থাকতে পারে। তবে যাদের নথি সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করতে পারবেন না, তাদের নাম বাদ যাবে।
১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে শুনানিতে ডাকা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।