উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে ঝোড়ো সভা সেরে বিকেলে সোজা দমদমে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র দমদমে ব্রাত্য বসুর সমর্থনে প্রচারে এসে ফের রণংদেহী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেলের ময়দান থেকে একদিকে যেমন কর্মীদের ‘সাবধান’ করলেন, অন্যদিকে দিল্লির বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দিলেন বড় হুশিয়ারি।
অশান্তির আশঙ্কা ও বিশেষ সতর্কতা: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “খুব সাবধানে সবাই ভোট করাবেন। মনে রাখবেন, ভোট এলেই বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়। আপনাদের এলাকায় দাঙ্গা বা অশান্তি বাধানোর চেষ্টা হবে। খুব সতর্ক নজর রাখতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভোটে জিততে না পেরে এখন ‘গদ্দার’ আর ‘এজেন্সি’র ওপর ভরসা করছে। কর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন, কোনও উস্কানিতে পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জবাব দিতে।
এজেন্সি নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ: এদিন সকালেই কলকাতায় তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানার ঘটনা নিয়ে সরব হন নেত্রী। মমতার বক্তব্য, “আমার প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের ওপর এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি বলছি, যত এজেন্সি পাঠাবে, তৃণমূলের ভোট তত বাড়বে। আমাদের জেল খাটালে আমরা ভয় পাই না।”
উত্তর ২৪ পরগনার ভোট সমীকরণ: দমদমে দাঁড়িয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, এই জেলা বরাবরই তৃণমূলের দুর্গ। বিজেপি এখানে মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “দমদম প্রগতির শহর, এখানে কোনও বিভাজন চলবে না। ব্রাত্য বসুর মতো যোগ্য মানুষকে আপনারা ফের জয়ী করুন।”
প্রধান হুশিয়ারি: মমতা এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচনের দিন কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ মানুষ যেন সোচ্চার হন। তাঁর সাফ কথা, “ভোটের দিনটা আপনাদের। কেউ বাধা দিলে আপনারা শান্ত থাকুন কিন্তু রুখে দাঁড়ান।”
নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগে মমতার এই দমদম ভাষণ কর্মীদের মধ্যে নতুন করে টনিকের কাজ করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





