ভোটার তালিকার কাজে বেরিয়ে ফের মর্মান্তিক মৃত্যু! শীতলকুচিতে বিএলও-এর বাইক দুর্ঘটনা, ‘অমানবিক চাপ’-এর অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার কাজ করতে গিয়ে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায়। এই ঘটনায় রাজ্যে SIR কাজের চাপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

শীতলকুচিতে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত বিএলও-র নাম ললিত অধিকারী। তিনি শীতলকুচির ২০৫ নম্বর বুথের দায়িত্বে ছিলেন এবং খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষমুরি এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে শীতলকুচি–মাথাভাঙা রাজ্য সড়কের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহারের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে গেলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা ললিত অধিকারীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

SIR-এর চাপ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মমতার
অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাজ্যের নির্বাচনী কর্মীদের উপর চাপ নিয়ে কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত বুধবার (১৯ নভেম্বর, ২০২৫) জলপাইগুড়ির মাল ব্লকে একজন বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মীদের ওপর “অমানবিক চাপ” সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এক্স (পূর্বতন ট্যুইটার)-এ পোস্ট করে কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি “অপরিকল্পিত ও বিশ্রামহীন কাজের” সামনে কর্মীদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত ব্যক্তি— যিনি বিএলও হিসেবে নিযুক্ত একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন— ভারতের নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় ভোটার তালিকা সংশোধন কাজের “অসহনীয় চাপ”-এর কারণেই আত্মহত্যা করেছেন।

তৃণমূলের তোপ
শীতলকুচির এই দুর্ঘটনার পর গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কমিশনের অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ডেডলাইন মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।