ভোটাধিকার পেলেও নতুন সমস্যায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ! SIR ফর্মে বাবা-মায়ের নাম কী লিখবেন? গুরুমার নাম গ্রহণে নারাজ কমিশন, তোলপাড় মালদা!

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা ভোটাধিকার পেলেও, রাজ্যের চলমান সিস্টেমেটিক ইনফরমেশন রিকনস্ট্রাকশন (SIR) প্রক্রিয়ায় এক নতুন সমস্যায় পড়েছেন বৃহন্নলারা। বিশেষত এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা, কারণ তাঁদের অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং অভিভাবকরা তাঁদের সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি দিতে রাজি নন।
মালদা শহরে প্রায় দেড়শোরও বেশি বৃহন্নলা রয়েছেন, যাঁরা এই সমস্যার সম্মুখীন।
❓ রক্তের সম্পর্ক বনাম গুরুমা
দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এই বৃহন্নলারা বয়স্ক কোনো বৃহন্নলার কাছে আশ্রয় পান, যাঁকে তাঁরা ‘গুরুমা’ হিসেবে মানেন। এতদিন যেকোনো সরকারি আবেদনপত্রে অভিভাবক হিসাবে তাঁরা গুরুমার নামই লিখে এসেছেন।
কিন্তু এসআইআর-এর নতুন এনুমারেশন ফর্মে বলা হয়েছে মা-বাবা অথবা নিকটাত্মীয় (রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন) কারও নাম অভিভাবক হিসাবে লিখতে হবে। যেহেতু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না, তাই নিজেদের পুরনো তথ্য দিয়েও ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে না।
সমস্যা: তাঁদের বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়রা তাঁদের সন্তান হিসেবে স্বীকার করেন না বা তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। এই অবস্থায় তাঁরা কীভাবে ফর্মে রক্তের সম্পর্কের অভিভাবকের তথ্য দেবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
প্রশাসনের নীরবতা: বৃহন্নলাদের এমন সমস্যার কথা শুনে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও আপাতত পিছিয়ে গিয়েছেন।
🗣️ কাউন্সিলর ও সমাজকর্মীর উদ্বেগ
ইংরেজবাজার পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পলি চৌধুরী, যাঁর ওয়ার্ডে অনেক বৃহন্নলা বসবাস করেন, তিনি বলেন, “এঁদের অনেকে এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করতে গিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। এঁরা সবাই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন… তাই অভিভাবকের জায়গায় এঁরা নিজেদের গুরুমার নাম মায়ের জায়গায় লিখছেন।”
তবে সমস্যা হলো, মালদার গুরুমা সঙ্গীতারাই হিজরানিও মালদার বাসিন্দা নন এবং তিনিও বাড়ি থেকে বিতাড়িত। তাঁর ক্ষেত্রে বাবার ভোটার কার্ডের তথ্য থাকায় ফর্ম পূরণ হলেও, তাঁর শিষ্যাদের ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে না।
তৃতীয় লিঙ্গের সমাজকর্মী দেবী আচার্য (পূর্বে দেবাশিস আচার্য) এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাদের মতো অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে পরিবারের কেউ যোগাযোগ রাখেন না। বিচার ব্যবস্থা আমাদের মেনে নিলেও সামাজিকভাবে এখনও অনেকেই আমাদের মানতে পারেন না। তাহলে আমরা এই ফর্ম পূরণ করব কীভাবে? আমি মালদা ফিরে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তার সঙ্গে এ নিয়ে বিশদে আলোচনা করব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও জানিয়েছেন, অনেকে গুরুমার নাম দিয়েই ফর্ম জমা দিয়েছেন এবং তা কমিশনের পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে। তবে সেই ফর্ম কমিশন গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।