পুরীর আদলে তৈরি মন্দিরেই ভাগ্য বদল দিঘার! ৬ মাসে ৯০ লক্ষ ভক্তের সমাগম, জগন্নাথ মন্দিরের দৈনিক আয় কত জানেন?

বাঙালির ভ্রমণ মানচিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান দিঘা এখন আর নিছকই ‘উইকেন্ড ডেস্টিনেশন’ নয়। পুরীর আদলে গড়ে ওঠা জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই সৈকত শহরের ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের মতে, দিঘার পর্যটন শিল্পে এই মন্দির এক নতুন আধ্যাত্মিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মন্দিরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পর থেকেই দিঘায় পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই বদলেরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

📊 বিপুল ভক্ত সমাগম ও রেকর্ড আয়
মন্দির সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ছ’মাসে প্রায় ৯০ লক্ষ ভক্ত জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে দিঘায় পা রেখেছেন।

দৈনিক ভিড়: সাধারণ দিনগুলিতে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী মন্দির চত্বরে ভিড় জমাচ্ছেন। শনি-রবিবার ও উৎসবের দিনগুলিতে এই সংখ্যাটি আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

দৈনিক আয়: ভক্ত সমাগমের বিপুল জোয়ারে মন্দিরের ভাঁড়ারও সমৃদ্ধ হচ্ছে। জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাস আয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন:

প্রণামী বক্সে নগদ জমা: প্রায় ১ লক্ষ টাকারও বেশি।

অনুদান ও উপহার: দৈনিক আয় আরও ১ লক্ষ টাকা।

প্রসাদ বিক্রি: দৈনিক আয় কমবেশি ২ লক্ষ টাকা।

মোট দৈনিক আয়: প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।

📈 ‘টেম্পল ইকোনমি’তে গতি
মন্দিরকে কেন্দ্র করে দিঘার সামগ্রিক অর্থনীতি বা ‘টেম্পল ইকোনমি’তে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে।

হোটেল ব্যবসা: স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী ও লজ মালিকদের মতে, দিঘার পর্যটনে এখন আর ‘অফ-সিজন’ বলে কোনও শব্দ নেই। আগে বর্ষা বা পরীক্ষার সময় দিঘা ফাঁকা থাকলেও, এখন বছরের ৩৬৫ দিনই পর্যটকদের আনাগোনা লেগে রয়েছে।

পর্যটকদের থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি: আগে পর্যটকরা এক-দু’দিনের জন্য দিঘায় আসতেন, কিন্তু এখন মন্দির দর্শন ও আরতি দেখার টানে অনেকেই থাকার মেয়াদ বাড়াচ্ছেন।

কর্মসংস্থান: মন্দির চত্বর ও তার আশপাশের এলাকায় ফুল, মিষ্টি, পুজোর ডালা-সহ অসংখ্য ছোট-বড় দোকান গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় স্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করেছে।

কর্মীর সংখ্যা: মন্দিরের নিজস্ব পরিচালন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, নিত্য সেবা, সাফাইকর্মী এবং হাউসকিপিং বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৭০ জন কর্মী দিনরাত কাজ করছেন।

সবমিলিয়ে, দিঘা এখন বাঙালির কাছে একাধারে সমুদ্রের আনন্দ এবং আধ্যাত্মিক শান্তির ঠিকানা হয়ে উঠেছে।