ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসলীলা! ভূমিকম্পে মৃত ১৭০০-র বেশি, ‘অপারেশন আমিস্তাদ’-এ ত্রাণ নিয়ে পাশে ভারত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে জনপদ। গত ২৪ জুন আঘাত হানা এই জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১৭০০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৫০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। প্রায় ১২,০০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের অনুমান, এই বিপর্যয়ে প্রায় ৬৭.৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা গত একশ বছরের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের ঘটনা।

ত্রাণে ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’
এই চরম সংকটের মুহূর্তে বিপন্ন ভেনেজুয়েলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভারত। বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত শুরু করেছে ‘অপারেশন আমিস্তাদ’। ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে করে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। এই অভিযানে রয়েছে ৪১ সদস্যের বিশেষ উদ্ধারকারী দল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল, ৩০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী, ৬ টন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম।

অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’-এর ব্যবহার
উদ্ধারকার্যে ভারত নিয়ে গিয়েছে দুটি অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’ (BHISHM Cube) বহনযোগ্য হাসপাতাল। এই প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে সক্ষম। ভেনেজুয়েলার এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ওশেনিয়া বিষয়ক উপমন্ত্রী আন্দ্রেয়া কোরাও ফারিয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের এই দ্রুত ও কার্যকর প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বিশ্বের সহায়তা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ভেনেজুয়েলা ইতিমধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ছিল, তার ওপর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশটিকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। এই কঠিন সময়ে ভারতসহ ২৪টি দেশ এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ২৭০০ উদ্ধারকর্মী এবং ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী সেখানে কাজ করছে। ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সংকটের মুহূর্তে ভারত সর্বদা এক নির্ভরযোগ্য এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা দলগুলি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযানের গতি বাড়ানো হয়েছে।