সুন্দরবনে বড় অস্ত্র উদ্ধার! বিপুল গোলাবারুদ-সহ গ্রেফতার খোদ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত কুমিরমারি এলাকায় পুলিশের বড়সড় অভিযানে নড়েচড়ে বসল রাজনৈতিক মহল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ জোরালো অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার জেরে গ্রেফতার করা হয়েছে গোসাবার কুমিরমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি অঙ্কন মণ্ডলকে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি দেশি তৈরি ডবল ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।

কীভাবে ফাঁদে পড়লেন তৃণমূল নেতা?
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই সুন্দরবনের এই দুর্গম এলাকায় বেআইনি অস্ত্র মজুত করার খবর আসছিল তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে। স্থানীয়দের একাংশের মধ্যেও এনিয়ে চাপা আতঙ্ক ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ প্রথমে তৃণমূল নেতা অঙ্কন মণ্ডলকে আটক করে। দীর্ঘক্ষণ লাগাতার জেরার মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত অঙ্কনবাবু ভেঙে পড়েন এবং অস্ত্রের হদিশ দিতে বাধ্য হন। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

কী উদ্দেশ্যে মজুত অস্ত্র?
সুন্দরবনের মতো জায়গায় এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ মজুত করার পেছনে কী গভীর ষড়যন্ত্র ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকা দখলের লড়াই কিংবা এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার জন্যই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। আবার পুলিশের বড়সড় কোনো হামলার ছক বা নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। ধৃত নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, কোথা থেকে এই অস্ত্রগুলি আনা হয়েছিল এবং এই অস্ত্র কারবারের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে। গোসাবার মতো শান্ত এলাকায় তৃণমূল নেতার এমন কর্মকাণ্ডে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অঙ্কন মণ্ডলের কল লিস্ট এবং সাম্প্রতিক সময়ের সমস্ত গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আর কোনো বড় মাথারা জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।