জসপালের মৃত্যুর ১৬ দিনের মাথায় শোকের ছায়া, প্রয়াত পদ্মশ্রী শুটারের মা শ্যামা দেবী

মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধান। ছেলে জসপাল রানার অকাল প্রয়াণের শোক না কাটতেই এবার চিরবিদায় নিলেন তাঁর মা শ্যামা দেবী রানা। ৭৮ বছর বয়সী শ্যামা দেবী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন ছিল জসপাল রানার ৫০তম জন্মদিন। যে দিনটিতে আনন্দ করার কথা ছিল, সেই দিনটিই পরিবারে নিয়ে এল আরও এক গভীর বিষাদ। গত ১২ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কিংবদন্তি শুটার ও দ্রোণাচার্য সম্মানপ্রাপ্ত কোচ জসপাল রানার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ক্রীড়াঙ্গন। সেই শোকের রেশ কাটার আগেই মায়ের চলে যাওয়া পরিবারটিকে এক গভীর শূন্যতার মুখে ঠেলে দিল।

শ্যামা দেবী রানার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “প্রখ্যাত শুটার পদ্মশ্রী জসপাল রানার মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই কঠিন সময়ে শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

১৯৭৬ সালের ২৮ জুন উত্তরাখণ্ডের টেহরি গড়ওয়ালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জসপাল রানা। ১২ বছর বয়স থেকেই শুটিংয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে ইতালির মিলানে বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র বিভাগে বিশ্বরেকর্ড গড়ে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। আটলান্টা অলিম্পিকেও তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কমনওয়েলথ গেমসে ১৫টি পদক এবং এশিয়ান গেমসে ৮টি পদকজয়ী এই শুটার পরবর্তীকালে ভারতের কোচিং জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেন। প্যারিস অলিম্পিকে মনু ভাকরের জোড়া পদক জয়ের নেপথ্যে ছিল জসপাল রানারই কঠোর প্রশিক্ষণ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে অর্জুন পুরস্কার, ২১ বছর বয়সে পদ্মশ্রী এবং ২০২০ সালে দ্রোণাচার্য পুরস্কারে ভূষিত জসপাল রানা কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন ভারতীয় শুটিংয়ের পথপ্রদর্শক। তাঁর অকাল প্রয়াণ এবং তার ঠিক দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁর মায়ের মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রীড়া জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। জসপাল রানার স্মৃতি এবং তাঁর পরিবারের প্রতি আজ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গোটা দেশ।