“ভুল তথ্য দিলেই হতে পারে বড় জরিমানা!”-জনগণনার SEF ফিলাপ করার আগে জানুন এই নিয়ম!

১ অগাস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনার সেলফ এনুমারেশন (Self Enumeration) পদ্ধতি। আগামী ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত এ রাজ্যের বাসিন্দারা সম্পূর্ণ অনলাইনেই নিজেদের পরিবারের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারের এই নতুন ডিজিটাল পদক্ষেপে বাড়ির বাইরে না গিয়েই খুব সহজেই তথ্য নথিভুক্ত করা সম্ভব।
কোন পোর্টালে করবেন তথ্য আপলোড?
বাড়ি বসে জনগণনার তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অফিসিয়াল পোর্টালে ভিজিট করতে হবে। পোর্টালটি হলো: https://se.census.gov.in। এই পোর্টালে গিয়ে পরিবারের প্রধান কিংবা তাঁর অনুমোদিত পরিবারের যে কোনো একজন সদস্য খুব সহজেই এই সেলফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
ফর্ম ফিলআপের জন্য কী কী তথ্য ও নথি হাতের কাছে রাখবেন?
অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন পড়বে। তাই নিচের বিষয়গুলি আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন:
ব্যক্তিগত ও যোগাযোগের তথ্য: বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর (যাতে ওটিপি বা OTP আসবে), সম্পূর্ণ ঠিকানা ও পিনকোড।
বাসগৃহের বিবরণ: বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও ছাদ কী দিয়ে তৈরি, বাড়িটি আবাসিক নাকি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয় এবং বাড়ির বর্তমান অবস্থা কেমন।
মালিকানা ও ঘরসংক্রান্ত তথ্য: পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা, গৃহকর্তার লিঙ্গ, বাড়ির মালিকানা (নিজস্ব নাকি ভাড়া) এবং মোট ঘরের সংখ্যা।
পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা: পানীয় জলের প্রধান উৎস, আলোর উৎস (বিদ্যুৎ বা কেরোসিন), শৌচাগারের সুবিধা ও ধরণ, রান্নাঘরের ব্যবস্থা এবং রান্নার প্রধান জ্বালানি কী, তা জানাতে হবে।
সম্পদ ও গ্যাজেটের বিবরণ: বাড়িতে রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ-কম্পিউটার, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সাইকেল, স্কুটার, মোটরবাইক কিংবা চার চাকার গাড়ি রয়েছে কি না, তার বিবরণ দিতে হবে।
অনলাইন ফর্ম পূরণের কিছু বিশেষ কৌশল
অধিকাংশ প্রশ্নই থাকবে মাল্টিপল চয়েস (Multiple Choice) বা বিকল্পভিত্তিক।
নাম লেখার সুবিধার জন্য থাকছে ফনেটিক ও ভার্চুয়াল কিবোর্ড (Phonetic & Virtual Keyboard)।
কোনো প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধা হলে FAQ এবং Tooltip-এর সাহায্য নিয়ে তার ব্যাখ্যা জেনে নেওয়া যাবে।
কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে সিস্টেম নিজেই তা চিহ্নিত করে সতর্ক করে দেবে।
সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর তা রিভিউ বা সংশোধন করা যাবে এবং চাইলে ড্রাফট হিসেবে সেভ করে রেখে পরে সাবমিট করা যাবে।
সেলফ এনুমারেশন আইডি (SEID) ও পরবর্তী ধাপ
সমস্ত তথ্য সফলভাবে সাবমিট করার পর স্ক্রিনে ‘H’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া ১১ অঙ্কের একটি সেলফ এনুমারেশন আইডি (SEID) তৈরি হবে। একই সঙ্গে এই আইডি এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে আপনার মোবাইলেও চলে আসবে।
প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে যখন সরকারি গণনাকারী বা এনুমারেটর আপনার বাড়ি আসবেন, তখন তাঁকে এই SE ID দিলেই হবে। সরকারের মূল রেকর্ডের সঙ্গে আইডি মিলে গেলে গণনাকারী আপনার তথ্যগুলো গ্রহণ করে নেবেন।
জরুরি তথ্য: সেলফ এনুমারেশন করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনি যদি অনলাইনে এই কাজ না করেন, তবে নির্দিষ্ট সময়ে জনগণনা কর্মী সরাসরি আপনার বাড়ি এসে এই একই তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে মনে রাখবেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান করলে বা তথ্য দিতে অস্বীকার করলে জরিমানার বিধান রয়েছে।