‘স্টার কিডদের পক্ষপাতিত্ব দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম!’ কেন অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন জনপ্রিয় এই নায়িকা?

২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট ছবি ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে বলিউডে নিজের রূপকথার মতো কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে সক্ষম হলেও, তাঁর বলিউড যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেই কঠিন দিনগুলোর কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার নিখুঁত জাঁকজমকে যখন নিজেকে একদম বেমানান মনে হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়ে অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন এই তারকা। প্রথাগত ‘বলিউড হিরোইন’-এর যে প্রচলিত ছাঁচ বা মাপকাঠি রয়েছে, তাতে তিনি বহু ক্ষেত্রেই ফিট করছিলেন না। যার ফলে একের পর এক ভালো কাজের লোভনীয় সুযোগ তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়ে মুম্বই ছাড়ার মনস্থির করেছিলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই জানান, তার ব্লকবাস্টার ছবি ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এবং ‘বালা’ মুক্তির ঠিক আগের সময়টাতে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি ঠিক করেছিলেন যে এই মুম্বই ইন্ডাস্ট্রি আর নয়, এবার তিনি সোজা নিজের রাজ্য হিমাচলে ফিরে যাবেন এবং সেখানে তাঁদের নিজস্ব ফার্মহাউসে চাষবাস করে নতুনভাবে জীবন শুরু করবেন। সে সময় তাঁর বাবা-মাও মেয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘সব ছেড়ে বাড়ি চলে আয়।’ কিন্তু ভাগ্যের এমন এক অদ্ভুত পরিহাস যে, ঠিক যখনই তিনি ব্যর্থতার সমস্ত ভয় ঝেড়ে ফেলে ইন্ডাস্ট্রিকে আঁকড়ে ধরে রাখার মরিয়া মানসিকতা ত্যাগ করলেন, ঠিক তখনই তাঁর পুরো জীবনটাই সম্পূর্ণ বদলে গেল। একে একে এল ‘উরি’ এবং ‘বালা’র মতো ব্লকবাস্টার ছবি, যা রাতারাতি তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বলিউডে তথাকথিত ‘আউটসাইডার’ বা বহিরাগত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কড়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের বা স্টার কিডরা বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক সুযোগ পেতেই থাকেন। অথচ বহিরাগতদের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য এক অসম লড়াইতে নামতে হয়। ইয়ামি আক্ষেপের সুরে জানান, বহুবার এমন হয়েছে যে তিনি নিজে মনে করেছেন কোনও নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য তিনি ১০০ শতাংশ উপযুক্ত, অথচ শেষ মুহূর্তে সেই সুযোগ অন্য কেউ ছিনিয়ে নিয়েছে শুধুমাত্র কোনও প্রভাবশালী ফিল্মি পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে। তবে তিনি এও বিশ্বাস করেন যে বর্তমান যুগের দর্শকরা অনেক বেশি সচেতন। কোন অভিনেতা বা অভিনেত্রী কোন পরিবার থেকে এসেছেন, তা নিয়ে দর্শকদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই; তারা পর্দার সুঅভিনয়টাই দেখতে চান।
ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে থাকা এই পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপোষণ বহুবার তাঁকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে বলে জানান ইয়ামি। বহু নামী প্রোজেক্ট নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার পরও কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তা হঠাৎ হাতছাড়া হয়ে যেত। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা, প্রত্যাখ্যান ও লড়াইকে পেছনে ফেলে আজ তিনি বলিউডের অন্যতম সফল, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। খুব শীঘ্রই পরিচালক বালাজি মোহনের আসন্ন ছবি ‘নয়ী নবেলী’-তে এক সম্পূর্ণ নতুন ও চমকপ্রদ অবতারে বড় পর্দায় কামব্যাক করতে চলেছেন ইয়ামি গৌতম।