‘ভুলত্রুটি আর দুর্নীতি এক নয়!’ ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় হাইকোর্টে বিস্ফোরক রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবার বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) কিশোর দত্ত। মামলাকারীদের বারবার তোলা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলত্রুটি থাকা আর দুর্নীতি এক জিনিস নয়।

রাজ্যের সওয়াল: বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত যুক্তি দেন:

‘দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা’: তিনি জোর দিয়ে বলেন, মামলাকারীরা যে 2016 সালের নিয়োগ প্রক্রিয়াতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রসঙ্গে: AG জানান, মোট 43 হাজারেরও বেশি নিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে আদালতের নির্দেশে মাত্র 94 জন অ-উত্তীর্ণ প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। সিবিআই তদন্তের রিপোর্টেও মাত্র 360 জন অপ্রশিক্ষিত শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে 32 হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের কোনও যোগ নেই।

এস. বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির ভূমিকা: ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে AG ব্যাখ্যা করেন যে, এস. বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি শুধুমাত্র ওএমআর শিট বানানোর অর্থাৎ ‘ছাপাখানার কাজ’ করেছিল। মেধাতালিকা প্রস্তুত করা, ইন্টারভিউ নেওয়া বা ওএমআর স্ক্রুটিনির কাজে বোর্ডের একাধিক সাব কমিটি ছিল, যেখানে ওই সংস্থার কোনও ভূমিকাই ছিল না।

নিয়ম মেনে নিয়োগ: AG-এর দাবি, 2018 সালের 1 মে এবং 15 মে আদালতের নির্দেশে কয়েকজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তকে নিয়োগ করা হয়েছিল। মামলাকারীরা এই নিয়োগগুলোকেই ‘বেআইনি’ বলে আদালতে ভুল তথ্য দিয়েছে।

আগামীকাল শুনানি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা: গত শুনানিতে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীরা নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে এবং এতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসাজশ ছিল বলেও দাবি করেছিলেন। ডিভিশন বেঞ্চ তখন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ছাড়পত্র ছাড়া প্রশিক্ষণহীনদের কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তোলে।

দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে চলা এই মামলার শুনানি বুধবারই শেষ হতে পারে। আগামিকাল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও তাদের বক্তব্য পেশ করবে আদালতে।