ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের রমরমা! বড় পদক্ষেপে সরাসরি ক্ষমতা কাড়ল নবান্ন, কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের

জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth & Death Certificate) ঘিরে চলা দেদার কারচুপি এবং জালিয়াতির জাল ভাঙতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এখন থেকে রাজ্যের কোনও পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধান আর সরাসরি বার্থ বা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারবেন না। এই সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে বড়সড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। একইসঙ্গে জেলায় জেলায় পুলিশি অভিযান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুয়ো সার্টিফিকেটের রমরমা ও নির্বাচন কমিশনের নজরদারি

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, বিগত দিনে প্রচুর ভুয়ো বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি চলেছে। সম্প্রতি SIR (Special Intensive Revision বা বিশেষ সংশোধন) প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নজরে একাধিক বড় ভুলভ্রান্তি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও এই বিষয়ে অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। নির্বাচনের পরে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরই সরকার এই কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, “জেনে-বুঝে কেউ কারচুপি করে থাকলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। নিয়ম থাকলেও বহু অনিয়ম হয়েছে। স্কুল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও প্রচুর ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু মানুষের অসদুপায়ের জন্য সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়ছেন।”

সার্টিফিকেট যাচাই ও বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার নির্দেশ

নবান্ন সূত্রে খবর, বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সমস্ত পুরোনো তথ্য ডিজিটালি স্ক্যান করে রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দেওয়া হবে। মুখ্যসচিব সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি নিছকই একটি প্রশাসনিক নিয়ম, তাই এতে সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে এই যাচাইয়ের কাজটি সম্পূর্ণভাবে স্থায়ী সরকারি আধিকারিকেরাই করবেন, কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মী এই সংবেদনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না।

জেলায় জেলায় পুলিশি অভিযান ও কঠোর হুঁশিয়ারি

ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশি অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি খোদ কলকাতাতেও পুরসভায় সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখার কাজ জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁর কাছে প্রকৃত ও বৈধ সার্টিফিকেট নেই, শুনানি সাপেক্ষে তাঁদের নিয়মমাফিক সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তবে কোনো অবৈধ বা জাল সার্টিফিকেট চিহ্নিত হলে তা তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত শুরু করবে সরকার। মুখ্যসচিবের হুঙ্কার, “কোনো অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবে না।”