“৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন!”-বেতন ও ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে নবান্নের ঘোষণায় খুশির হাওয়া

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এল অত্যন্ত বড় ও খুশির খবর। একের পর এক মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির পর এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হলো সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশা ও ব্যাপক উৎসাহের আবহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন নিয়ে অর্থ দফতর থেকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে নতুন সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই এই বড় পদক্ষেপ করা হলো।
৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি
পে কমিশন গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এই কমিশন খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি:
চেয়ারম্যান: কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের প্রাক্তন সচিব তথা অবসরপ্রাপ্ত IAS অতনু চক্রবর্তী।
সদস্য: নীতি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র গবেষক ডক্টর পার্থ মুখোপাধ্যায়।
সদস্য: আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক ডক্টর পার্থ প্রতিম পাল।
সদস্য-সচিব: IAS তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব দেবী প্রসাদ করণম।
কোন কোন দিক খতিয়ে দেখবে কমিশন?
নবান্ন সূত্রে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মূলত সরকারি কর্মী, বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং ডিএ নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনা করবে এই পে কমিশন। বর্তমান বেতন ও ভাতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করার পাশাপাশি কর্মীদের কাজের সঙ্গে জীবনের ভারসাম্য (Work-Life Balance) উন্নত করার সুপারিশও করবে কমিশন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকারকে তাদের অন্তিম রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সুপারিশ তৈরির সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার, অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং আসন্ন অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশকেও বিবেচনায় রাখতে পারবে। এছাড়া বর্তমান বেতন কাঠামো, স্পেশাল এলাউন্স, ট্রাভেল এলাউন্স, প্রমোশন পলিসি, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে কমিশন। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রাথমিক বেতন নির্ধারণ এবং পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত জানাবে তারা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
ক্ষমতায় আসার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই নিজেদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পে কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই তা কার্যকর করা যায়। এছাড়া সপ্তম পে কমিশন সফলভাবে কার্যকর হলে আগামী ২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম পে কমিশন গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-এর ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। বকেয়া ডিএ মেটানোর পাশাপাশি দুর্গাপূজার কথা মাথায় রেখে আগামী অক্টোবর মাসেই অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে। সেইসঙ্গেই বাজেটে ঘোষিত ২০% অতিরিক্ত ডিএ যুক্ত হয়ে বেতন পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।