দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের জেরে! বাংলা থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হলো CRPF-এর ২০টি কোম্পানি

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলির বিক্ষোভ এবার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একদিকে চলছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন, অন্যদিকে রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভের জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) অতিরিক্ত ২০টি কোম্পানি বা কন্টিনজেন্ট তলব করল কেন্দ্র।
আকাশপথে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে জওয়ানদের
সংশ্লিষ্ট মহলের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) বিশেষ নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মোতায়েন থাকা সিআরপিএফ-এর এই ২০টি কন্টিনজেন্টকে অবিলম্বে রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জওয়ানদের আকাশপথে বিমানে করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থার সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংস সংঘর্ষ ও গোলমালের ঘটনার পরেই এই জরুরি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন হঠাৎ বাংলা থেকে সরিয়ে আনা হলো বাহিনীকে?
কিছুদিন আগে বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য এই আধা সামরিক বাহিনীগুলিকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের অনুরোধেই তাদের সেখানে থেকে যেতে বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সিআরপিএফ-এর প্রতিটি কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন করে জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে প্রায় ২ হাজার জওয়ানের একটি বিশাল বাহিনীকে বাংলা থেকে সরাসরি দিল্লিতে উড়িয়ে আনা হয়েছে।
মূলত ব্যাপক প্রতিবাদ এবং গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাজেট বা বর্ষাকালীন অধিবেশনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতেই দিল্লি পুলিশকে সহায়তার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগেও দিল্লি পুলিশকে প্রায় ৩০ কোম্পানি সিআরপিএফ এবং তাদের বিশেষ দাঙ্গা দমন ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) প্রদান করা হয়েছিল। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে।