ডেইরি ফার্ম ব্যবসায় ৫০ শতাংশ সরাসরি সরকারি ভর্তুকি! পশুপালকদের জন্য বিরাট সুযোগ এনে দিল যোগী রাজ্য

মোরাদাবাদে দুগ্ধ খামার ও বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালনে আগ্রহীদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এসেছে পশুপালন বিভাগ। এই লাভজনক ব্যবসার প্রসারে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি দারুণ ভর্তুকি প্রকল্প চালু করেছে, যার আওতায় মোট প্রকল্প খরচের ঠিক অর্ধেক অর্থাৎ পুরো ৫০ শতাংশ অনুদান সরাসরি প্রদান করবে সরকার। সাধারণ মানুষ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দুগ্ধ ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করে তুলতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোরাদাবাদের প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা ডঃ সুনীল দত্ত প্রজাপতি এই সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ও সুযোগ-সুবিধার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব পশুপালক বা কৃষক বাণিজ্যিকভাবে উন্নত মানের গবাদি পশু পালন শুরু করতে চান, তাঁরা খুব সহজেই এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি আধুনিক দুগ্ধ খামার বা বিশাল পশুপালন ইউনিট স্থাপন করেন, তবে তাঁকে নিজের পকেট থেকে সম্পূর্ণ টাকা খরচ করতে হবে না। এক্ষেত্রে তাঁকে কেবল সাড়ে বারো লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তাবলী অনুযায়ী, বাকি ১২.৫ লক্ষ টাকার একটি বিরাট অংশ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এর ফলে সাধারণ পশুপালক ও কৃষকরা অত্যন্ত কম মূলধন ও ন্যূনতম খরচে একটি সুসংগঠিত বড় ব্যবসা শুরু করার চমৎকার সুযোগ পাবেন। শুধু দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করাই নয়, বরং গবাদি পশুর গোবর এবং গোমূত্রভিত্তিক নানা উপজাত সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে খামার মালিকদের অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেবে এই প্রকল্প। এটি গ্রামীণ এলাকায় বেকার যুবকদের স্ব-কর্মসংস্থানে নিযুক্ত হওয়ার এক সোনালী সুযোগ এনে দেবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক পশুপালক ও উদ্যোক্তাদের তাঁদের নিকটস্থ উন্নয়ন ব্লক পশু হাসপাতাল কিংবা সরাসরি মোরাদাবাদের প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে গেলে আবেদন করার সঠিক প্রক্রিয়া, নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, শুধুমাত্র নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি এবং নিয়মাবলী মেনেই সমস্ত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।

পশুপালন বিভাগ প্রবল আশাবাদী যে, এই আকর্ষণীয় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি প্রকল্পটি রাজ্যের বিপুল সংখ্যক কৃষক, খামারি এবং তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যে দুধের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে, তেমনই অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে। অতএব, আপনিও যদি পশুপালনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে লাভজনক ব্যবসা গড়ে তুলতে চান, তবে এটিই সবচেয়ে মোক্ষম সময়। দেরি না করে আজই এই সরকারি ভর্তুকি প্রকল্পের সুবিধা নিন এবং আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক ধাপ এগিয়ে চলুন।