রাস্তায় তাণ্ডব নাকি রাজনৈতিক অভিসন্ধি? NEET বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী!

জাতীয় রাজধানীতে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত এবং একাধিক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে NEET বিতর্ক ও বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বুধবারও রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ ছিল। একাধিক স্তরের ব্যারিকেড, পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর ভারী মোতায়েনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। একদিকে যখন বিরোধীরা লাগাতার সরকার বিরোধী আক্রমণ শাণিয়ে চলেছে, ঠিক তখনই রাজনাথ সিংয়ের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ মন্তব্য গোটা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনাকে অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, দেশের কোমলমতি ছাত্রসমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ছাত্র ও যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সর্বতোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনাথ সিং দৃঢ়তার সাথে জানান যে, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি নায্য উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে শোনা এবং তাদের সমস্ত সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করা সরকারের অন্যতম প্রধান পবিত্র দায়িত্ব।
দেশীয় যুবসমাজের পরিপক্কতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে যে ভারতের সচেতন ও বিবেকবান তরুণ প্রজন্ম এই ধরনের রাজনৈতিকভাবে ভ्रामক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টাকে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে। তাঁরা বরাবরই ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে প্রগতি, বিকাশ এবং সুদৃঢ় রাষ্ট্রগঠনের পথকেই নিজেদের চলার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেবে। সরকারের কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি সাফ জানান যে, দেশের কোনো নাগরিক, বিশেষ করে কোনো ছাত্র কিংবা যুবকের সঙ্গে যাতে বিন্দুমাত্র অবিচার না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিরোধী দলের কিছু নেতার দ্বারা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এই ক্ষোভ মূলত সাধারণ মানুষ এবং যুবসমাজকে দিশেহারা ও বিভ্রান্ত করার একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাজনৈতিক প্রচেষ্টা মাত্র।
তরুণ প্রজন্মের আবেগ এবং তাদের ন্যায়সংগত উদ্বেগের প্রতি বর্তমান প্রশাসন যে পুরোপুরি সংবেদনশীল, সেকথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। বর্তমানে সংসদের বাদল অধিবেশন সচল থাকা সত্ত্বেও এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো বিষয়ে উন্মুক্ত ও অর্থবহ আলোচনার পূর্ণ সদিচ্ছা প্রকাশ করা সত্ত্বেও, বিরোধী দলগুলো সংসদের অন্দরে বিতর্কে অংশ না নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় নেমে সমস্যার সমাধান করার এক অনুপযুক্ত পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ পীঠস্থান হল সংসদ, যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত ও দাবি পেশ করতে পারে। তাই বিরোধী শিবির যদি প্রকৃতপক্ষেই দেশের স্বার্থে আন্তরিক হয়, তবে তাদের উচিত চলমান সংসদীয় অধিবেশন ব্যাহত না করে সংসদ ভবনেই সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়া।