ভারতের সমুদ্রে নতুন পরাশক্তি, মোদীর হাত ধরে কমিশন পেল তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ!

আজ কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিলেন তিনটি অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী স্বদেশী নৌজাহাজ—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়। এই কমিশন ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করল। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর কারখানায় তৈরি এই জাহাজগুলো দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তির এক অনবদ্য নিদর্শন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত নৌসেনা কর্মকর্তা, দেশি প্রকৌশলী এবং নিবেদিতপ্রাণ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই জাহাজগুলো কেবল স্টিল ও যন্ত্রাংশের সংমিশ্রণ নয়, এগুলো ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বপ্ন, অদম্য সাহস এবং বিশ্বমানের সক্ষমতার জীবন্ত প্রতীক।” প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতকে ২০০টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজের নৌবহর হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলো তারই পথপ্রদর্শক।
এই ত্রয়ীর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া হলো আইএনএস দুনাগিরি। প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত এই অ্যাডভান্সড স্টেলথ ফ্রিগেটটি লম্বায় প্রায় ১৪৯ মিটার এবং এর ওজন প্রায় ৬,৬৭০ টন। অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তির কারণে এটি শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়বে না। এর বিধ্বংসী ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং বহুমুখী অস্ত্রভাণ্ডার সমুদ্র যুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধিপত্য নিশ্চিত করবে। উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের দুনাগিরি শৃঙ্গের নামে নামাঙ্কিত এই জাহাজটি ব্লু-ওয়াটার কমব্যাটে এক শক্তিশালী সংযোজন।
দ্বিতীয় জাহাজটি হলো আইএনএস সংশোধক, যা একটি সর্বাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ। ১১০ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটি সমুদ্রের গভীরতা, বন্দরের চ্যানেল নির্ধারণ এবং সমুদ্রতলের ম্যাপিংয়ে বিশেষ পারদর্শী। অটোনমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি) এবং উন্নত সোনার সিস্টেম সজ্জিত এই জাহাজটি সমুদ্রের তলদেশের সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করে নৌবাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দেবে।
তৃতীয় জাহাজ আইএনএস অগ্রয় হলো একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট। উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রে সাবমেরিন মোকাবিলায় এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। টর্পেডো এবং উন্নত সোনার প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই জাহাজটি ভারতের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে করেছে দুর্ভেদ্য।
এই তিনটি জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয় শিল্প থেকে সংগৃহীত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক উজ্জ্বল সাফল্য। জিআরএসই-এর প্রকৌশলীরা জানান, বিশ্বমানের প্রযুক্তির প্রয়োগ করে কম সময়ে এবং সাশ্রয়ী খরচে এই জাহাজগুলো নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা ভারতীয় শিপবিল্ডিং খাতের বিশ্বজয় করার সক্ষমতাকে প্রমাণ করে। আজ ভারতের সমুদ্রসীমা আরও এক ধাপ সুরক্ষিত হলো।