ধেয়ে আসছে দুর্যোগ, আগামী ৩ ঘণ্টা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারার বৃষ্টির পূর্বাভাস!

রবিবার দুপুরের পর থেকেই হঠাৎ রং বদলাল কলকাতার আকাশ। ঘন কালো মেঘের আস্তরণে ঢেকে গেছে মহানগরী, আর তার ঠিক পরেই শুরু হয়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি। শুধু কলকাতাই নয়, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুর—দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। সঙ্গে যোগ দিয়েছে তীব্র বজ্রপাত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টা এই দুর্যোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আজ দিনভর এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির কারণে এই আকস্মিক ঝড়বৃষ্টির ঘনঘটা। এদিন কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, বজ্রপাতের আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক করেছে।

আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে নাগরিকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে এবং ঝোড়ো হাওয়ার ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষার জন্য খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। যদিও বর্ষা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করবে, সে বিষয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনও নিশ্চিত কোনো ইঙ্গিত দেয়নি, তবে রবিবার দিনভর যে দুর্যোগের রেশ থাকবে তা আবহাওয়া মানচিত্র দেখেই স্পষ্ট। ঝেঁপে নামা বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাট ভিজে একাকার, যানবাহন চলাচলেও বেশ ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। শহরতলির পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আপাতত দুর্যোগের এই সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্যবাসীর প্রতি।