ভারতের জয়ের আসল কারিগর তিলক বর্মা! শাহিন-রউফদের বোলিংয়ে চাপেও কীভাবে ম্যাচ ফিনিশ করলেন তরুণ ব্যাটার?

এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান বোলারদের কাছে তিলক বর্মা ছিলেন অপ্রত্যাশিত এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফ, ফাহিম আশরাফদের হিসেবের খাতাতেই ছিলেন না এই তরুণ ব্যাটার, কিন্তু তিনিই শেষ পর্যন্ত ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। অভিষেক শর্মার বদলে তিলক বর্মা যে ভারতের জয়ের প্রশ্নপত্রে চলে আসবেন, সেই উত্তর জানা ছিল না পাক ম্যানেজমেন্টের।

ম্যাচ জেতার পর তিলক এই ইনিংসটিকে নিজের ‘কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস’ বলে অভিহিত করেছেন।

১০/২ থেকে হাল ধরলেন তিলক
১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একটা সময় ভারতের স্কোর ছিল ১০/২। দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার তিলক বর্মা। প্রথমে স্যামসন এবং পরে দুবেকে নিয়ে তিনি ভারতের তরী পার করিয়ে দেন।

খেলা শেষে তিলক বলেন, “চাপ ছিল। ওরা ভালো বোলিং করছিল। আমি মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছিলাম আর এটাই ভাবছিলাম যে নিজেকে যতটা পারা যায় শান্ত রাখার। স্যামসন দারুণ খেলেছে। দুবে যেভাবে চাপের মুখে ব্যাটিং করল, তার জন্যেও প্রশংসা প্রাপ্য।”

তিনি আরও বলেন যে, তিনি সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন। “আমি যে কোনও ব্যাটিং পজিশনে ব্যাট করতে রাজি”, জানিয়ে তিলক বলেন, “গৌতম স্যারের সঙ্গে দীর্ঘসময় কাটিয়েছি নেটে। নিজের ব্যাটিংকে আরও ধারালো করার চেষ্টা করে গিয়েছি। নিঃসন্দেহে আমার কেরিয়ারের এটা অন্যতম স্পেশাল ইনিংস। সব ভারতীয়র জন্য এই ইনিংসটা।”

অক্ষরে অক্ষরে মিলল রিঙ্কু সিং-এর ভবিষ্যদ্বাণী
অন্যদিকে, এই ফাইনালে মাত্র এক বল খেলেই বাজিমাত করেছেন রিঙ্কু সিং। গোটা টুর্নামেন্টে সুযোগ না পেলেও হার্দিক পান্ডিয়া চোটের জেরে খেলতে না পারায় একেবারে ফাইনালে তাঁর ভাগ্য খোলে। তিনি যে বলে চার মেরে ম্যাচ জেতান, গোটা টুর্নামেন্টে সেটিই তাঁর খেলা একমাত্র বল।

ঘটনাচক্রে, রিঙ্কু কিন্তু টুর্নামেন্টের আগেই এক রাউন্ডে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে লিখেছিলেন ‘WIN RUN’ অর্থাৎ তিনি দলের হয়ে এশিয়া কাপ জয়ী রানটা করবেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই কথাটিই অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল।

তরুণ এই ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ভারত নবম বারের মতো এশিয়া কাপ ঘরে তুলল।