ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নয়া অধ্যায়! ১৭২ বছর পর দেশের রেল মানচিত্রে মিজোরাম, সূচনা করলেন মোদী

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রাজ্য মিজোরাম এতদিন রেল মানচিত্রের বাইরে ছিল। এবার সেই দুর্গম পার্বত্য রাজ্যও যুক্ত হলো দেশের মূল রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে। ভারতীয় রেলের ১৭২ বছরের ইতিহাসে এই ‘অসাধ্য সাধন’ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে। তিনি উদ্বোধন করলেন বহু প্রতীক্ষিত বৈরাবি-সাইরাং রেললাইনের।

১০ বছরের কঠিন চ্যালেঞ্জ

মিজোরামের পার্বত্য ও ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে রেললাইন তৈরি করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। দুর্গম এলাকা, গভীর খাদ এবং পাহাড়ের ঢাল অতিক্রম করে এই রেললাইন নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। এই রেলপথটি সম্পূর্ণ করতে নির্মাণ করতে হয়েছে ৪৮টি সুড়ঙ্গ এবং ১৫০টি সেতু। এই কঠিন কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলো।

যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

এই নতুন রেললাইনের উদ্বোধনের পর আইজল থেকে নয়াদিল্লি রুটে যাত্রা শুরু করল রাজধানী এক্সপ্রেস। ২,৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা। এই রেললাইনটি শুধুমাত্র পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একটি বড় ভরসা হয়ে উঠবে।

মিজোরামের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের রেল যোগাযোগ না থাকায় এতদিন সড়কপথ বা আকাশপথই ছিল একমাত্র ভরসা। এই নতুন রেলপথ চালু হওয়ায় মিজোরামের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং একইসঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।